মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

।। জেলখানার জিন্দেগী ।।

।। জেলখানার জিন্দেগী ।।

জেলখানায় একটা "কোরান দফা" আছে । এইখানে কোরান পড়ে হাজতিরা । তার পাশে একটা দোকানে পান সিগারেট বেঁচে । আমি এক খিলি পান আর একটা ডারবি সিগারেট দোকান থেকে নিয়া খুব আরামচে সময় নষ্ট করছিলাম ।

কোরান দফা থেকে একজন হুজুর বের হইয়া এক খিলি পান নিয়া আমার পাশে দাঁড়াইয়া পান চিবাইতেছিলো । আমি অবাক হইয়া ভাবতে ছিলাম , একজন হুজুর জেলখানায় থাকবে কেন?

হুজুররে জিগাইলাম , হুজুর মামলা কি ? হুজুর কইলো , গুটি (ইয়াবা) । বুঝলাম গুটি নিয়া ধরা খাইছে । হুজুররে পাল্টা জিগাইলাম , হুজুর ধরা খাইছেন ক্যামনে ? হুজুর কয় , টেকনাফ থেকে একটা হানিফ বাস রিজার্ভ কইরা সাতান্নজন তবলিগে যাইতেছিলো । গাড়ি মইজ্জার টেক আইলে পুলিশ তাদের গাড়ি থামাইয়া তল্লাশি করতে চায় । গাড়ির ভেতরের সকল হুজুররা বলে , তারা আল্লাহর রাস্তায় যাইতেছে তাদের কাছে কোন অবৈধ কিচ্ছু নাই । তাদের ব্যাগে যা আছে তা কোরান হাদিস আর কিছু জামা কাপড় । পুলিশ কয় , তাদের কাছে স্ট্রং ইনফরমেশন আছে এই গাড়িতে করে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ঢাকায় পাচার হচ্ছে ।

বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ হুজুরদের বলে , যাদের ব্যাগে কোরান হাদিস আছে তারা যেনো কোরান হাদিস হাতে নিয়া নে । আর বাকি জামা কাপড় যেনো নিচে বিছানো চাদরে ডাইলা দে । পুলিশ প্রত্যেকের জামা কাপড় এবং ব্যাগ চেক করবে ।

এতে বেশির ভাগ হুজুর রাজি হয় । এবং তারা তাদের জামা কাপড় চাদরে ডাইলা দে । পুলিশ একেক করে সব জামা কাপড় এবং ব্যাগ তল্লাশি করে । এবং সাতজনের কাছে প্রায় ৫ লাখের মতো ইয়াবা পায় । এবং যাদের কাছে ইয়াবা পায় তারা সকলেই টেকনাফের একটা স্থানীয় মাদ্রাসার কোরানে হাফেজ । পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার কইরা জেলখানায় পাঠাইয়া দে । আর বাকিদের তবলিগে যাওয়ার জন্যে গাড়ি ছাইড়া দে ।

আমি হুজুরের মুখ থেকে এই কাহিনী শুইনা হুজুররে জিগাইলাম , হুজুর ইয়াবা ব্যবসাতো হারাম । আপনি একজন কোরানে হাফেজ হইয়া এই ব্যবসা করতাছেন কিয়ামতের দিন আপনি আল্লাহকে কি জবাব দিবেন ? হুজুর কয় , আমি হালাল টাকায় ব্যবসা করছি । আমিতো আর ইয়াবা খাচ্ছি না । আর ইয়াবাতো একটা মেডিসিন । আমিতো ওষুধ হিসাবে বিক্রি করতেছি । মাদক হিসাবে না ।

হুজুর আমিতো জানি ইয়াবা একটি মাদক । হুজুর কয়, আমি মাদকের নিয়তে বিক্রি করতেছি না আমি ওষুধের নিয়তে ব্যবসা করছি । আর কোরানের কোথাও ইয়াবা সম্পর্কে বলা হয় নাই । কোরানে বলা হয়েছে মদ আর গাঁজা সম্পর্কে । আমিতো আর মদ গাঁজা বিক্রি করছি না ।

ইয়াবা যারা মাদকের নিয়তে খাচ্ছে তাদেরই কৈফিয়ত দিতে হবে । যারা ওষুধের নিয়তে ব্যবসা করছে তাদেরকে হাশরের ময়দানে কৈফিয়ত দিতে হবে না ! আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন। আমি হালাল টাকায় হালাল নিয়তে ইয়াবা ব্যবসা করছি । আমি সুদ খাচ্ছি না । আমি স্রেফ ইয়াবা ব্যবসা করছি । আমার কৈফিয়ত দেওয়ার প্রশ্নই আসে না !

তারপর হুজুর আমারে জিগাই, ভাই আপনার মামলা কি ? আমি কইলাম , হুজুর তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইন । হুজুর কয়, ওহ বুঝছি । আপনি ব্লগার ? আমি কইলাম , হুম । হুজুর কইলো, আপনি নাস্তিক । আপনার লগে কথা কইলেও গুনা । ব্লগাররা জাহান্নামে যাইবে । আপনি ফি নারে জাহান্নাম ।

আমি কইলাম , হুজুর ব্লগাররা জাহান্নামে যাইবে এইডা কি কোরানের কোথাও আছে ? হুজুর কইলো, কোরানে নাই এমন কোন কিছুই দুনিয়াতে নাই ।

হুজুর পান চিবাইতেছে আর আমি সিগারেটের শেষ টানটা মাইরা আমার ওয়ার্ডের দিকে হাঁটা দিলাম ।

হুজুরের নাম, মুহাম্মদ আবদু সত্তার । বাড়ি কলেজ রোড টেকনাফ । থাকে পদ্মা আটারোতে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন