বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭

সময়ের গল্প
-জিপসি রুদ্র ।

চরিত্র
 
মিউজিশিয়ান 
কবি, 
পলিটিশিয়ান
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার 
এবং 
একজন সুন্দরী মডেল।। 

দৃশ্যপট(১) 

দুই বন্ধু ছাদে বসে আছে। তাদের একজন গিটার হাতে টুংটাং করছে, আরেকজন বিয়ার খাচ্ছে। পাশে ছড়িয়ে থাকবে বেশ কয়েকটা বই, বিয়ারের ক্যান,চানাচুর, চিপস, ক্যামেরা, একটা ভাঙ্গা টুল, সিগারেটের প্যাকেট, এশট্রে এবং লাইটার।।

দৃশ্যপট (২) 

তিন নাম্বার বন্ধুর প্রবেশ। গিটার হাতে থাকা বন্ধুটি বলবে- কি রে পলিটিশিয়ান এতো দেরি? পলিটিশিয়ান বন্ধু হেঁটে আসতে আসতে বলবে- আর বলিস না! আসার সময় একজন ঘাতকদালাল জামাতিরে *** দিয়ে আসলাম! শালারা সুযোগ পাইলেই ধর্মের দোহাই দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধরে ভইরা দেয়! সব শালা মাদারিচুদ ।- এই বলে সিগারেট ধরাবে! 

দৃশ্যপট (৩)

বিয়ার খেতে থাকা বন্ধুটি বলবে- তোরা শালা পড়ে রয়েছিস সেই একাত্তর থেকে জামাতিদের পিছনে। এরা এখন প্রায় মরা। তেতুলবাগী হেফাজতিদের দিকে একটু নজর দে! নইলে দেখবি এরা সবাই তেতুলবাগী হেফাজতিদের সাথে ভিড়ে গিয়ে শেখের বেটিরে গদি ছাড়া করবে। তখন বুঝবি দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার কী হাল হয়!! 

দৃশ্যপট (৪) 

পলিটিশিয়ান বন্ধু সিগারেট টানতে টানতে বলবে- এই দেশের নয়াপ্রজন্ম, দেশের জন্ম ইতিহাস জানে না!জন্মশত্রুদেরও চিনে না! আমরা পলিটিশিয়ানরা যদি নয়াপ্রজন্মের মগজে মননে বোধে দেশপ্রেম এবং মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ঢুকিয়ে দিতে না পারি, তাহলে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ বনাম ইসলামকে দাঁড় করিয়ে ফেলবে! তখন এই জাতি কাইন্দাও আর কুল পাবে না।মাইন্ড ইট। বিয়ার খেতে থাকা বন্ধুটি বলবে- এই জন্যেই কবি বলেছে... 

দৃশ্যপট (৫) 

প্রথম বন্ধু চেহারায় একটু বিরক্তি নিয়ে বলবে- আরে ব্যাটা তোর কবি কী বলেছে সেটা এখন ছাড়! পলিটিশিয়ান আর কবি এক সাথে হলেই ঝামেলা বাড়ে! তোরা শালা পুরোদমের ফাউল। ফাউল কথাবার্তা বন্ধ কর এখন! একটা সুর খুঁজে পাইছি তোরা শান্ত হইয়া বয়। আমি বাজিয়ে শোনাচ্ছি, তোরা শোন। পলিটিশিয়ান বন্ধু বসে পড়বে।ছেলেটি গিটার বাজাবে... 

দৃশ্যপট (৬) 

ঠিক এমন সময় ফ্রেমে ঢুকবে একটি মেয়ে, বলবে- পলিটিশিয়ান, কবি, মিউজিশিয়ান গোলহয়ে বসে কী করা হচ্ছে শুনি!? মিউজিশিয়ান উত্তর দিবে- একজন সুন্দরী মডেলের জন্য অপেক্ষা করছি!! মেয়েটি হেঁসে দিয়ে কবি'র পাশে গিয়ে বসতে বসতে বলবে- কিরে নতুন কোনো কবিতা লিখলি ? নাকি বিয়ার গিলতে গিলতে কবিতাও গুলে খেয়েছিস ? কবি বলবে- হে উর্বশী রমনী! ইদানীং কবিতা লিখতে পারছি না! শুধুই ভাবছি-কী লেখা যায়! পলিটিশিয়ান সিগারেট ফুকতে ফুকতে বলবে- হুম ভাবতে থাক, আর ভাবতে থাক! এই আধুনিক যুগে আসবে না কোন পয়গাম্বর আসবে না কোন দেবী! মানুষকে পথ দেখাবে শুধুই কবি! কবি বন্ধু বলবে- এই লাইন কবি রুদ্র শায়খের না? পলিটিশিয়ান বলবে- হুমমমম।। 

দৃশ্যপট (৭) 

মেয়েটি চানাচুর মুখে দিয়ে,মেঝেতে পড়ে থাকা বইটি হাতে নিয়ে খুলে দেখবে , আর বলবে- বইটি ভালো । আমি পড়েছি । মিউজিশিয়ান মাথা নেড়ে বলবে- হুম, ভালো। আমারও বেশ ভালো লেগেছে।। 

দৃশ্যপট (৮) 

এমন সময় ছাদের দরজা দিয়ে ঢুকবে পঞ্চম বন্ধু! তাকে দেখেই বিয়ার খাওয়া কবি বন্ধুটি উঠে দাঁড়িয়ে বলবে- হে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম মেকার! আমরা তো তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। ফিল্মমেকার পলিটিশিয়ান বন্ধুর পাশে গিয়ে বসবে এবং বলবে- কেমন আছিস? পলিটিশিয়ান বলবে- তুই এমন একটি সিনেমা কবে বানাবি? যে সিনেমা দেখে নয়াপ্রজন্ম উগ্র দেশপ্রেম চর্চা করবে!? ফিল্মমেকার বলবে- বন্ধু, এই দেশকে উগ্রভাবে ভালবাসতেন শুধু একজনই। তিনি বলতেন, দুর্নীতিবাজ আর কালোবাজারিদেরকে খতম করতে হবে। তিনি বলতেন, আমার লোকের উপর যদি আর একটা গুলি চলে তাইলে তোমাদের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। এমন সময় মেয়েটি ফিল্মমেকারকে উদ্দেশ্য করে বলবে- দোস্ত, আমি সেই মহান লোকটারে চিনি। তিনি আমাদের জাতির পিতা! তখন মিউজিয়াশিয়ান গিটার বাজাতে বাজাতে গাইবে- "শোন একটি মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে উঠে রনি.. কবি বন্ধু বলবে- বাঙলাদেশ আমার বাঙলাদেশ।। 

দৃশ্যপট (৯) 

ফিল্মমেকার বলবে- একজন পলিটিশিয়ান একজন মিউজিশিয়ান একজন কবি এবং একজন স্মার্ট মডেল থাকলে আমার অবশ্যই একটা সেই লেভেলের ফিল্ম বানানো উচিত।যাতে সেই ফিল্ম দেখে মানুষ জয় বাঙলা স্লোগান দিতে দিতেই হল থেকে বের হবে। মেয়েটি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলবে- দোস্ত, তোর সেই ফিল্মের নায়কের নায়িকা আমারেই বানাইছ। পলিটিশিয়ানের দিকে ইঙ্গিত করে মেয়েটি বলবে- চলো! পলিটিশিয়ান বাকি বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বলবে- তোরা থাক আমি গেলাম। কবি বন্ধু বলবে- ঠিক আছে মডেলরা, ব্যবসায়ী আর পলিটিশিয়ানদের সাথেই যায়, কবি আর মিউজিশিয়ানদের সাথে না! মেয়েটি বলবে- কবি তুই আসলেই সেরা! পরের বার তোর জন্য এককেইস বিয়ার নিয়ে আসবো! কবি বলবে- ওকে। পলিটিশিয়ান আর মেয়েটি বের হয়ে যাবে। 

দৃশ্যপট (১০) 

মিউজিশিয়ান ফিল্ম মেকার এবং কবি গোলহয়ে আডডায় বসে আছে! মিউজিয়াশান গিটারে "ধন ধান্য পুস্পে ভরা আমাদেরই বসুন্ধরা" গানটি টিউন করবে... ফিল্মমেকার ক্যামেরা নিয়ে ক্লিক করবে আর কবি এক হাতে বই অন্য হাতে বিয়ারের ক্যান নিয়ে নির্বাক চেয়ে রবে! ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইবে বিয়ারের ক্যান,ম্যাচের কাটি,সিগারেটের প্যাকেট, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ...

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

আদরের রাষ্ট্র আমার কথা একটু ভাবুন...

প্রেমিকার সাথে দেখা করতে চকবাজার যাচ্ছিলাম। রিকশা মহসিন কলেজের ক্যান্টিন বরাবর এলে টহল পুলিশ সিগন্যাল দেয়। আমি রিকশা থামাতে বলি।
চারজন পুলিশ চারদিক থেকে রিকশা ঘিরে ধরলো। একজন জানতে চাইলো, কি করেন? বললাম, লিখি, ছবি তুলি, শর্টফিল্ম বানাই আর একটা চাকরি করি।
আরেকজন পুলিশ বললো, গলায় আপনার গামছা কেনো? বললাম, এটি আমার দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
(টহল অফিসারের প্রবেশ) অফিসার জানতে চাইলেন, মানে? বললাম, স্যার, আমার দেশের প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষ তাদের গায়ের ঘাম গামছা দিয়ে মুচে। আর এই শ্রমজীবী মানুষের ঘামে ঘুরছে আমার দেশের আয় উন্নতি। আমি’তো আর তাদেরকে জনে জনে গিয়ে বলতে পারবোনা, আমি তোমাকে সম্মান করি, আমি তোমাকে সম্মান করি… তাই আমি গামছাটা গলায় জড়িয়ে নিয়েছি। মানে আমি তোমাদের ঘাম আমার গায়ে মেখে নিলাম!
পাশ থেকে আরেকজন পুলিশ বললো, কথা কম শুনেন স্যার, ব্যাগ তল্লাশি করেন। আমি রিকশা থেকে নেমে গেলাম। বললাম, স্যার আপনারা চাইলে আমার সব কিছু তল্লাশি করতে পারেন। আমি আপনাদের সহযোগীতা করবো। আমি রাষ্ট্র বিরোধী কোন কাজের সাথে সম্পৃক্ত না। ব্যাগে আমার বই পুস্তক ও সিনেমার স্ক্রিপ্ট আছে।
পুলিশ বললো, কথা কম। ব্যাগ খুলেন। আমি ব্যাগের চেইন খুলে দিলাম। পুলিশ ব্যাগ থেকে কাগজ পত্র বের করে রিকশার সিটে রাখলেন। আরেকজন পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। টহল অফিসার দাঁড়িয়ে দেখছেন আর ওয়াকিটকিতে কথা বলছেন।
তল্লাশিরত পুলিশ এবার ব্যাগ থেকে বের করলেন, কবি আলী প্রয়াসের বই, বুলেট ও বালক। পুলিশ জানতে চাইলেন, এই বইয়ের নাম এমন ক্যান? উত্তরে বললাম, স্যার বইটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক রচনা। খুবই ভালো বই। আপনি চাইলে বইটি পড়তে পারেন। পুলিশ বললো, বই পড়া আমার চাকরী না! আমি হতভম্ব হইলাম! বিচলিত হইলাম!
পুলিশ ব্যাগ থেকে আমার ফার্স্ট এইড বের কইরা চিল্লাইয়া উঠিয়া বললো, এই গুলো কি? আমি বললাম, স্যার ফার্স্ট এইড। কখন কই যাই না যাই ঠিকঠিকানা থাকে না! কাটা ছেঁড়া হইলে সাথে সাথে যেনো প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারি তাই এই সেভলন, গজ, ওয়ানটাইম ব্যান্ডেজ সাথে রাখি।
ঠিক এমন সময় আমার ব্যাগ থেকে বেড়িয়ে এলো ২০ থেকে ৩০ গ্রাম-এর মতো মারিজুয়ানা। খুবই অল্প। আট থেকে দশ ষ্টিক মতো হবে!
আমি সাথে সাথে বললাম অফিসার বরাবর তাকিয়ে, স্যার আমি নেশা করি। এটি আমাকে চিন্তা করার জন্যে খুবই সাহায্য করে। তবে এই নেশার এবিউস আমি করি না। নেশা কইরা স্যার আমি রাষ্ট্র বিরোধী কোন কাজ করি না। আমি নেশা করি কেবলমাত্র কনসান্ট্রেট থাকার জন্যে। অফিসার বললেন, আপনিতো সব কিছু বুঝেন আপনি কি এইটা বুঝছেন না, আপনি আইন অমান্য করেছেন?
আমি বললাম ইয়েস স্যার, আমি আইন অমান্য করেছি। এই জন্য আমি লজ্জিত এবং অনুতপ্ত! কিন্তু স্যার আমার কিচ্ছু করার নাই। সরকার মদের জন্যে লাইসেন্স দেয় কিন্তু মারিজুয়ানার জন্যে কোন লাইসেন্স দেয় না। এটা একেবারেই নিষিদ্ধ। তবে আমার ওয়ান লাইসেন্স আছে। অফিসার বললেন, পাওয়া গেছে এক আর লাইসেন্স দেখাইতাছেন আরেকটার! আমি বললাম, স্যার আমি বুঝাইতে চাইতেছি, উপায় নাই দেইখা আইন ভাঙছি।
ঠিক এই সময়, আমার গ্রামের এক রাজনৈতিক বড় ভাই, রফিক (এলাকার মাননীয় চেয়ারম্যান আক্তার হোসাইনের ছোট ভাই) রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন, আমাকে পুলিশি তল্লাশিরত অবস্থায় দেখে রিকশা থামিয়ে কি হাল হকিকত দেখতে নামচে। পুলিশ তখন আমার ব্যাগ ছেড়ে আমার দেহ তল্লাশিতে ব্যস্ত।
আমি রফিক ভাইকে বললাম, ভাই ভালো আছেন? রফিক ভাই ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া কয়, কিরে বাপ্পী (আমার ডাক নাম) তোর কি হইছে? আমি কইলাম, ভাই নেশা লইয়া ধরা খাইছি! ভাই কয় তুই খাস ভালা কথা, ব্যাগে লইয়া গুরস ক্যান? আমি কই, সব সময় করা লাগে তাই ব্যাগে থাকে।
পাশের পুলিশ বললো অফিসারকে, স্যার ওহ ড্রাগস নে। আমি বললাম স্যার মারিজুয়ানা আর হুইস্কি ছাড়া আমি আর অন্য কোন নেশা করি না।
অফিসার বললেন, এইদিকে আসেন। আমি গাড়ির সামনে এগিয়ে গেলাম অফিসারের সাথে। অফিসারকে বলছি, স্যার আমি ড্রাগস নেওয়ার পর দেশীয় রাজনীতি শিল্প সাহিত্য সিনেমা এইসব নিয়া ভাবি। লেখালেখির সময় নেশা আমাকে খুবই সাহায্য করে। আমি নেশাকে এই যাবত কখনো কনোদিনও এবিউস করি নাই।
রফিক ভাই আর এক পুলিশ আড়ালে কথা বলছিলেন, অফিসার তাদের ডাকলেন, রফিক ভাই এসে পকেট থেকে টাকা বের করে পুলিশের পকেটে ঢুকিয়ে দিলেন। জিজ্ঞাস করলাম কতো টাকা দিয়েছে, রফিক ভাই বললো পাঁচশো।
ঠিক এমন সময় ফোন দিলো, প্রেমিকা। কই? আমি কইলাম, পুলিশি তল্লাশিতে। প্রেমিকা কয়, ধরা খাইছো? আমি কই, হুম। প্রেমিকা ধমকের সুরে কয়, ঠিক আছে ম্যানেজ কইরা আসো। আমার ক্ষিধা লাগছে! আমি কই, তুমি আমারে ছাড়াইতে আসবে না? সে কয়, তুমি নেশা নিয়া ধরা খাইছো আমি কোন দুঃখে পুলিশের কাছে মুখ বেঁচতে আসবো! নিজে ম্যানেজ করো! আমি কইলাম, আইচ্ছা। তুমি শান্ত থাইকো! অস্তির হইয়ো না! সে কয়, খাইয়া দাইয়া আর কাম নাই! তোমার জন্যে অস্থির হওয়ার। ম্যানেজ কইরা তাড়াতাড়ি আসো! আমি আইচ্ছা কইয়া লাইন কাইটা দিলাম। কি এক প্রেমিকা লইয়া জীবন চালাইতেছি…!
আরেক পুলিশ বললো, আরে ভাই ওরে থানায় নিয়া গেলে দশ হাজার টাকা লাগবে ছাড়াইতে । ডিউটিতে আরো পুলিশ আছে!
আমি আর দেরি না করে মানিব্যাগ বের করে পাঁচশো টাকার একটা নোট হাতে দিয়া দিলাম। তারপর বললাম, স্যার আমি কি এখন প্রেমিকার সাথে দেখা করবার জন্যে যাইতে পারি? স্যার বললেন, আরে ভাই আপনি শিল্প সাহিত্যের মানুষ নেশা আপনার করা লাগবেই। নইলে আপনি চিন্তা করতে পারবেন না। লিখতে পারবেন না। হাইসা হাইসা অফিসার কয়, মনে কইরেন না পুলিশ এতো বেরসিক- বইলা আমার গলার গামছার এক কোনায় নেশার প্যাকেটি (যে প্যাকেট নিয়ে এতো ক্যাচাল) বেঁধে দিলো। আর বললো ভালো থাকবেন। আমিও বললাম, ঠিক আছে স্যার ভালো থাকবেন।
বিদায় হওয়ার সময় রফিক ভাই’কে তার পাঁচশ টাকা ফেরত দিছি। এবং তার নাম্বারটা সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বলছি, রফিক ভাই আপনি আমার জন্যে রাস্তায় গুনে গুনে ১৫ মিনিট সময় নষ্ট করেছেন, এই জন্যে আমি দুঃখিত। এবং লজ্জিত!
আর আপনি আমাকে যেভাবে সাহায্য করতে আগাইয়া আসছেন একেবারেই পথচারী হিসাবে তার জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ পোলাপাইন নেশা করবা না। নেশা করা খুব খারাপ। নেশা করলে মরবে। মাইন্ড ইট।

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

শুক্রবার , আমি , প্রেমিকা , ছবি তোলা আর আমার ইচ্ছা...!

শক্রবারে আমার তেমন কোন কাজ থাকে না । বিশুধবার অফিস শেষ করে একেবারেই নিজের মতো করে রাতটা কাটায় । আড্ডা, সমালোচনা , ভাই বেরাদার মিল্লা গোল হয়ে নেশা করা , মাতাল হয়ে কবিতা পড়া , আমার অতি আদরের বন্ধু আজাদ'কে নেশার কারিগর হিসাবে নোবেল দেওয়া ,  রাষ্ট্রীয় সকল ক্রাইসিসের জন্যে কবি আর রাজনীতিকের পরনের কাপড় আমি এই রাতেই খুলি !
শুক্রবার সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে করার মতো তেমন কিছু থাকে না । প্রেমিকা সকাল বেলায় সময় দিতে পছন্দ করে না । রোদ বেশি থাকে । তার ধারণা রোদে বের হলে ত্বক পুড়ে যাবে ! আমি আর ক্যাচাল পারি না ! হুদাই ! এই রোগ প্রায় সকল মাইয়ার আছে ! আমার খুব ইচ্ছা , আমার প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে আমি একদিন রোদ রাস্তা টোকাই ফুল পাখি আর ভাসমান মানুষের ছবি তুলবো । প্রেমিকারা সকাল পছন্দ করে না ! দুপুর পছন্দ করে না ! প্রেমিকারা কেবল বিকালেই কামুক হয় ! আর আমি প্রেমিকাহীন ক্যামেরা হাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি ! বেকার সময়ে প্রেমিকাহীন থাকার চেয়ে ক্যামেরা হাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা অনেক ভালো ! প্রেমিকারা আসলেই বুঝেনা প্রেমিকের হৃদয়ের দাবী !
তো এখন কথা হচ্ছে,  ছবি তুলে হবেটা কী ?!
- আমার উত্তর, কিচ্ছু হবে না । শুধুমাত্র  ছবি তুলে এর আগে বাঙলাদেশে কেউ কিচ্ছু হয় নি ! ছবি তুলে কিচ্ছু হয় না !
তাইলে ছবি তুলেন ক্যান ?
-মজা লাগে । আরাম লাগে । শান্তি পাই ।
ছবিগুলো দিয়া করবেন কী ? এক্সিবিশন ?
-ধুর ! ঐ কাজ পরিচিতি পাওয়ার জন্যে করে ! আমার পরিচিতি দরকার কী ! আমি পরিচিতি দিয়া করব’টা কী ! আমার দরকার শান্তি । পরিছন্ন জীবন  আর বিনোদন ।
তাইলে...
- মানুষের অনেক রকম ইচ্ছা আছে না ! আমারও সেই রকম একটি ইচ্ছা আছে, আমার তোলা সেরা একশো’টা ছবি নিয়ে আমার একটা " ছবি ঘর " হবে । প্রত্যেকটা ছবি ১২/১৬ সাইজের কালো ফ্রেমে বাধনো হবে । আর তার পাশে থাকবে আমার পছন্দের বই নিয়ে একটা লাইব্রেরী । এই জায়গাটি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে খোলা হবে । কবি ও রাজনীতিবিদ ছাড়া আর কেউই আমার “ছবি ঘর” আর লাইব্রেরীতে প্রবেশাধিকার পাবে  না । ওখানে তারা আমার পয়সায় চা বিড়ি খাবে আর একজন আরেকজনকে গালাগালি করবে ! পরামর্শ দিবে ! সাহায্য চাইবে একজন আরেকজনের ।  আমার দেশে কবি আর রাজনীতিবিদদের  মুখোমুখি হওয়ার জন্যে আদর্শ কোন জায়গা নাই ! তাদের একটা জায়গা দরকার !
আরে ভাই , তাইলে ছবি তোলা তো পুরাই লসের আপনার জন্যে !
- হুম । মনে হতে পারে । তবে আমার কাছে শান্তির । আরামের । মজার আর আনন্দের ! আমার কাছে বিশুধবার মানে ভরপুর “নেশার রাত” আর শুক্রবার মানে “ছবির দিন” ।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

আমি , প্রেম , পোট্রেট আর বিশুদ্ধ প্রেমিকা !



বহু ধরনের প্রেমের অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে । একটা প্রেম আমাকে এখনো অনেক ভাবায় । তখন আমি স্টুডেন্ট  । আমার অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের জন্যে পরিবারের সাথে আমার মনস্তাত্ত্বিক বেশ দূরত্ব তৈরি হয় । আমি চাই আমার মতো জীবন যাপন করতে তারা চায় আমার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রন করতে । বিশ্বাস অবিশ্বাসের সংঘাত তৈরি হয় । (এটিকে কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ দেখেছেন , এক জেনারেশনের সাথে আরেক জেনারেশনের চিন্তাগত দূরত্ব হিসাবে । যেমনটি আমার বাবার সাথে তার বাবার চিন্তাগত দূরত্ব ছিলো !) টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় পরিবার । ভীষণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় আমার জীবন যাপন ।
ঠিক তখনই আমার এই প্রেমটি আমাকে শহরে থাকার মতো প্রতিমাসে অর্থের যোগান দিতে থাকে । আমি নির্ভর হয়ে পড়ি এই প্রেমের উপর । আমার মনে হতে থাকে এই প্রেম ছাড়া আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন ।
প্রেমিকা শিক্ষিকা ছিলো । শিখিয়েছে অনেক কিছুই । বয়সে বেশ খানিকটা বড় ছিলো বলেই নিয়ন্ত্রন করতে পারতো আমায়। প্রেমিকার হাতে নিয়ন্ত্রিত হতে আমার বেশ ভালোই লাগতো । আমি নিয়ন্ত্রিত হতে চাইতাম প্রেমিকার ইচ্ছায় । আমাকে আমার প্রেমিকা নিয়ন্ত্রন করে – আহ ! কি এক ব্যাথা সুখের মতো বাজে !
এই প্রেমিকা আমাকে প্রেম শিখিয়েছে । দুপুরে ভাত খেতে গেছি নীলক্ষেতে , প্রেমিকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের করলো , একটা ছোট বাটি , খুলে দেখি ইলিশ মাছের ডিম ! ফোনে বলেছিলাম ইলিশ মাছের ডিম খেতে ভীষণ পছন্দ করি । তাই প্রেমিকা নিয়ে এসেছে ! আমি কোন কথা খাবার টেবিলে সেদিন বলতে পারি নি । নিশ্চুপ খেয়ে গেছি ! ঠুকঠাক এ কথা সেকথা সে বলেছে , আমি শুধু হ্যাঁ হু করেছি ! আমি ভাবছিলাম, এই মেয়েটি আমার মতো অনার্সের স্টুডেন্ট পড়ায় ! আর সে কিনা আমার প্রেমে পড়েছে ! আমি সেইদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, চিন্তায় কাছাকাছি হলে বয়স কোন সমস্যাই না ! আমরা বেশ পড়তে পারি একজন আরেকজনকে ।
বিকালে ক্লান্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রেমিকা’কে বললাম, খুব ক্ষিধা পেয়েছে , প্রেমিকা হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো সিঁড়িতে । খুব যত্নে পরিস্কার করলো সিঁড়ি । দুজন ঘন হয়ে বসলাম । প্রেমিকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ছোট একটি বাটি করে আমার হাতে দিলো, আমি খুলে দেখি , পায়েস ! সাথে একটা চোট চামচ !
আমি প্রথম আবেগি হয়েছিলাম সেইদিন ! আমি প্রেমিকার দিকে তাকিয়ে আছি ! প্রেমিকা পানির বোতল বের করতে করেত বলে, দেখো পায়েসটা ঠিক আছে কি না ! অনেকদিন পায়েসের গল্প শুনিয়েছি তোমায় ,এবার খাও ! অনেক যত্নে বানিয়েছি ! আমার হৃদপিণ্ড সেদিন ভীষণ কেঁপেছিলো ! আমি তেমন কোন কথা বলতে পারি নি ! চুপচাপ পায়েশ খেয়েছি ! আর প্রেমিকার দিকে নিশ্চুপ চেয়ে থেকেছি !
শিল্পি সঞ্চয়ের আঁকা এই প্রেমিকার একটি পোর্টট্রেট আমার বেডরুমে আছে । একটা সময় ছিলো আমি নিয়মিত এই পোর্টট্রেটের সাথে কথা বলতাম ! মনে হতো এইতো ঠোঁট নড়ছে ! আমার পাগলামি দেখে মুচকি মুচকি হাসছে ! আমি বেশ আবেগতাড়িত হয়ে নিয়মিত চুমু খেতাম ! এই প্রেমটি হারানোর পর আমি প্রথমবার বুঝতে পেরেছিলাম , প্রিয়জন হারানোর দহন কেমন ! কেমন একটা হৃদয় পোড়া গন্ধ নাকে লাগতো সব সময় !
প্রেমিকা হারানোর পর অনেকবার চেয়েছি পোর্টট্রেট’টি পানিতে ভাসিয়ে দিই ! কর্ণফুলী নদিতে ! প্রেমিকার সলিল সমাধি রচনা হবে ! পরক্ষনেই মনে হয়েছে , না ! আমি এমন অমানবিক প্রেমিক হতে পারবো না ! আমি মানবিক । আমার মানবতা আছে । প্রেমিকা হারানোর ক্ষোভে আমি তার পোর্টট্রেট নদীতে ভাসিয়ে দিতে পারি না ! আবার মনে হয়েছে, তাহলে বরং মেয়েটির ঠিকানায় পাঠিয়ে দিই ! পরক্ষনেই মনে হয়েছে, যেই প্রেম আমাকে  ঠিকে থাকার জন্যে অর্থের যোগান দিয়েছে , আমার প্রিয় ইলিশ মাছের ডিম বাসা থেকে রান্না করে নিয়ে এসে দুপুরে খাইয়েছে, আমার অতি প্রিয় পায়েশ নিজ হাতে বানিয়ে এনে আমাকে খেতে দিয়েছে সেই প্রেমিকার পোর্টট্রেট আমি নিজের কাছে সারাজীবন না রেখে পাঠিয়ে দিবো ! এটা বেশ অসম্মানিয় ! আমি প্রেমিকা’কে অসম্মান করতে পারবো না ! এমন সাহস দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়নি !
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম । তার প্রতি আমার প্রেম মরে যাক ! শিল্প বেঁচে থাক । এখন এই পোর্টট্রেট’টি আমার কাছে স্রেফ একটা শিল্পকর্ম । আমি এখন এই পোর্টট্রেট’টির সামনে দাঁড়ায় না ! মিছে মিছে বানিয়ে গল্প বলি না ! ঠোঁটের উপর আলতো করে চুমুও খাই না ! পোর্টট্রেট’টিও আগের মতো ঠোঁট নাড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসে না ! আমার হারানো প্রেমিকার এই পোর্টট্রেট’টি এখন আমার বেডরুমে হারানো প্রেমের একটা শিল্পকর্ম ছাড়া অন্য কিছুই নয় ।
আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকা’কে সেইদিন বলেছিলাম , বাবুনি ! ভাবছি পোর্টট্রে’টি এখান থেকে সরি ফেলবো ! সে মুচকি হেসে বলল, থাকুক না এখানে ! আমার কাছে এটা স্রেফ একটা শিল্পকর্ম ! এটি আমার দেখতে ভালোই লাগে !
বিশুদ্ধ প্রেমিকার কথা শুনে আমি সেদিন ভেবেছিলাম, আমি শালার হেব্বি হ্যাপি আছি ! হারানো প্রেমিকার প্রেমময় শিল্প আর বিশুদ্ধ প্রেমিকার প্রেম নিয়ে...

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫

বিশুদ্ধ প্রেমিকার অত্যাচারে আমি অসহায়...! পর্ব-১

বিশুদ্ধ প্রেমিকা ফোন দিয়ে জিগাইল, বাবু কই? উত্তরে কইলাম, বাসায় । কি করো ? কইলাম, নেশা করি ! এই নেশা করা ছাড়া তোমার আর কোন কাজ নাই ? কইলাম , আপাতত নাই ! তাইলে সোনা তোমাকে একটা কাজ দিই ? সেটা আমি কইলেও দিবা না কইলেও দিবা !হুদাই জিগাইয়া লাভ কি ! কি কাজ দিবা বইলা ফালাও ! বিশুদ্ধ প্রেমিকা একটুখানি হাসিয়া কহিল, বাবু তুমি কথা বেশি বল... শোনো, আমি বাড়ি থেকে বের হইছি , কাছাকাছি এসে তোমাকে ফোন দিলে তুমি বাস কাউন্টারে এসে আমাকে নিয়ে যেও । (আমি ক্ষেপে গিয়ে) কইলাম, অই তুই আমারে ভোদাই পাইছস ! আমি পারুম না ! তুই বাড়ি থেকে একা এতোটুকু পথ আসতে পারলি আর কাউন্টার থেকে বাসায় আসতে পারবি না ! ইয়ার্কি মারার জায়গা পাস না !এই ফালতু কাজ আমি করতে পারুম না ! (বিশুদ্ধ প্রেমিকা একটু ঢং কইরা) ওহ বাবু ! এমন করো ক্যান ! তোমারে ছাড়া রিকশায় একা বসতে আমার ভালো লাগে না ! পাশে ফাঁকা ফাঁকা লাগে ! ওহ সোনা অমন কইরো না ! আইসো হ্যাঁ ! কইলাম , আইচ্ছা ! ( ইশ ! অমন প্রেম এড়িয়ে চলার ক্ষমতা আমাকে দেওয়া হয় নি !)
দাঁড়িয়ে আছি কাউন্টারে । প্রেমিকা এখনো আসে নি । বলল , পাঁচ মিনিট মতো লাগবে । আমি প্রতিক্ষা করছি ,ইশ! বিশুদ্ধ প্রেমিকা বাড়ি থেকে আসবে আমি আবার রিকশায় হাত ধরে প্রেম করবো । এলোমেলো ভাবে ঘুরবো । ট্রাফিক সিগন্যালে রিকশা থেমে গেলে সে হুট করে একটা চুমু দিয়ে আশে পাশের সবাইকে কিংকর্তব্যবিমুট করে দিবে ! মানুষ এখনো প্রেমিক প্রেমিকার চুমুর সৌন্দর্য বুঝতে শিখেনি ! আর আমি তার মাথার চুলে নাক ডুবিয়ে শ্যাম্পুর ঘ্রান নিবো !
এরই মধ্যে একটা গাড়ি এসে থামল । এই গাড়িতেই আমার প্রেমিকা আছে । তাই গাড়ির দরজায় চোখ স্থির করে রেখেছি । বাবু...বাবু... ডাকে আমার ঘোর কাটলো, অই তুমি ওখানে দাঁড়িয়ে আছো ক্যান! গাড়িতে এসে আমার চালের ব্যাগ তরকারির ব্যাগ কে নামাবে ! হুম । আমি ব্যাগগুলো নিতে নিতে বললাম, অই তুই কি আমারে প্রেম করার জন্যে ডেকেছিস নাকি কুলি গিরি করার জন্যে ডেকেছিস ! হারামজাদি ! ফালতু ! আমি রাগে গরগর করছি আর সে মুচকি একটা হাসি দিয়ে ড্যাং ড্যাং করে আমার পাশ ঘেঁসে গাড়ি থেকে নেমে গেলো ! আর আমি ভোদাই হয়ে দুই হাতে দুইটা বস্তা নিয়ে তার পিছে পিছে হাঁটছি... কি বিচ্চিরি দৃশ্য মাইরি...!

আহ কি অসহায় মৃত্যুর পরেও...! / জিপসি রুদ্র

আমি আর বিশুদ্ধ প্রেমিকা এক সাথে থাকি। প্রায় চার বছর ধরে। আমরা ভালোবাসি, আমরা প্রেম করি, আমরা জ্যোৎস্না মাখি, আমরা দেহ বিনিময় করি একজন আরেকজনের সাথে।
আবার আমাদের মন না চাইলে আমরা আলাদা আলাদা থাকি। সে তার জায়গায়। আমি আমার বাসায়। আমাদের সম্পর্কে বিবেদ নাই, বিদ্বেষ নাই, আছে শুধু সতেজ সজীব সবুজ ভালোবাসা!
আমাদের এই চার বছরের সম্পর্কে একটু একটু করে জমা হয়েছে কতো স্মৃতি কতো গল্প তা শুধু আমরাই জানি। আর কেউই জানে না।
নিলয়ের হত্যাকান্ডের পর আশা মনিকে জড়িয়ে যে সব কথা বাতাসে চাউর হইছে তা শুনে আমি তো বেশ স্তম্ভিত! আমি এখন আরো বেশি অসহায় বোধ করছি!
আমাকে যদি কেউ বাসায় এসে অথবা রাস্তায় খুন করে চলে যায় , আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকা কী আদালতে আমার খুনের বিচার চাইতে পারবে না? আমার প্রেমিকা কী মামলা করতে পারবে না? সে বলবে যাকে খুন করা হয়েছে, সে আমার প্রেমিক। জিপসি রুদ্র। তাকে আমার সামনেই খুন করা হয়েছে। আমি দেখেছি। আমরা দুজন প্রেম করছিলাম এমন সময় অতর্কিত এসে দুজন আমাকে আটকে রাখে বাকি দুজন আমার প্রেমিকের উপর চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে আমার প্রেমিক আমার আদরের বয়ফ্রেন্ড আমার চোখের সামনেই মারা যায়। আমি তার চাক্ষুস সাক্ষী। মাননীয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দয়া করে আপনি এখন আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। পুলিশ কী মামলা নিবে না? নাকি বলবে নিকট আত্বীয় ছাড়া এসব মামলা করা যাবে না? আচ্ছা আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকা কি আমার নিকট আত্বীয় নয়? এই মেয়েটি শহরে না থাকলে এই শহরে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে । আমার নিশ্বাস নিতে ভীষন কষ্ট হয়। আমার অস্তিত্ব সংকট দেখা দেয়। আমার গোটা পৃথিবী থেমে যায়। অথচ সে আমার খুনের বিচার চেয়ে মামলা করতে পারবে না! সবাই বলবে, তাকে মারলো তোমাকে মারলো না কেনো? তুমি যদি এতোই তার পেয়ারি প্রেমিকা হও তাহলে দুই এক কোপ তোমার গায়েও তো পরতে পারতো! পড়লো না কেনো?
আচ্ছা আমার পরিবার কী জানে, আমি লিভ টু গেদার করি? আমি খুন হওয়ার পরে সবাই যখন জানতে চাইবে, জিপসি রুদ্র একটি মেয়েকে নিয়ে এক সাথে থাকতো , আপনারা জানতেন? মেয়েটা বলছে , সে জিপসি রুদ্রের বিশুদ্ধ প্রেমিকা! আমার মা কি উত্তর দিবে? ধর্মপ্রাণ আমার মা কী বলবে, হুম। আমি জানতাম। নাকি সামাজিকতার হাত থেকে বাঁচতে বলবে, অই মেয়েটিই আমার একমাত্র আদরের পুত্রের খুনি। নইলে সে কেমনে অক্ষত থাকে?
খুনিরা তাকে কোপ দেয়নি এটিই তার মানে আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকার অপরাধ হয়ে যাবে? ক্যান ভালোবেসে কেউ চাইলে এক সাথে থাকতে পারবে না? রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখ্যা কি?
আমি ভীষন অসহায় বোধ করি। আমাকে কেউ খুন করে ফেলে রাখলেও ন্যায় বিচার পাবে না! আহ! স্বাধীন রাষ্ট্রের মানুষ আমি! জন্ম আমার সার্থক! সালাম হে আমার বন্গ জননী !

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

আমার বাপ মাঝে মাঝে ভীষণ জ্বালায়...!

আমার বাপ নাই । মারা গেছে। তখন আমি চীন ছিলাম । বাপের চেহারাও দেখিনি । মরা বাপের চেহারা নিশ্চয় সুখকর কিছু নয় ! আমি শিখিয়ে দেওয়া সভ্যতার বিজারিত সন্তান । আমার বাপের চেহারা আমি মনে করতে পারি না । আমি বাপের চেহারা ভুলে গেছি ! মানুষ জীবনে বহু বিষয় ! বহু জিনিস ভুলে যায় ! আমিও ভুলে গেছি ! তবে মাঝে মাঝে গভীর রাতে বাপ আমাকে প্রশ্ন করে...
কিরে ব্যাটা , তোরে জন্ম দিয়ে আমি কি ভুল করেছি?
-জানি না ! আমার উত্তর
তোর যাপিত জীবন নিয়ে মানুষ আমার সারা জীবনের অর্জিত সুনাম নষ্ট করছে ! তারা বলছে আমি তোকে মানুষ করতে পারি নি!
-বাপ, এটা আমার জীবন । সিদ্ধান্তও আমার ! আমি যেনতেন ভাবে বেঁচে থাকতে চাই না ! আমি আমার মতো বেঁচে থাকতে চাই ।
আমাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্যগত একটা সমাজ আছে ! তুই চাইলে তোর ইচ্ছা হলেই তা ভাঙ্গতে পারিস না !
- আমি তোমার পূর্ব পুরুষের সমাজ ভাঙতে চাই না ! আমি শুধু আমার মতো করে বেঁচে থাকতে চাই ! প্রত্যেক মানুষের নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করছে তোমার পূর্ব পুরুষের সমাজ !
গত কিছুদিন আগে তোর মা'র সাথে কথা বলেছিলাম, শুনলাম তুই নাকি বাড়ি যাস না ! তোর মা কাঁদে...
-বাড়ি আমায় টানে না ! ওখানকার মানুষগুলো ভীষণ ধার্মিক ! তারা আমায় আর ভালোবাসে না ! হুম , মা ভীষণ কাঁদে ... ! ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে! আমি একবার শুনেছিলাম মা'র কান্নার শব্দ , সেইদিন মা তোমার জন্যে কেঁদেছিলো ! বাবা ! মা তোমায় এখনো ভালোবাসে...!
তুই ভালোবাসিস না ?
-না ।
কেন ?
-তুমি ভালোবাসার জন্যে আমার ভেতরে জায়গা করতে পারনি । তুমি বাবা হিসাবে আমার কাছ থেকে খুব কম নাম্বার পাও ! তুমি হয়তো , মা'র কাছে ভালো স্বামী তবে আমার কাছে ভালো বাবা নও !
ভীষণ কষ্ট পেলাম । আমি তোর জন্যে কি করিনি ? অসুস্থ হলে ডাক্তার খেতে চাইলে খাবার , লেখাপড়া জামা কাপড় সব আমি তোর জন্যে করিনি ! একজন বাবা হয়ে যা করে তা সবই আমি করেছি! তুই আমাকে খারাপ বাবা বলতে পারিস না ! - বাবা ভীষণ উত্তেজিত হয়ে গেছে ! উত্তেজিত হলে বাবার চোখ টকটকে লাল হয়ে যায় ! তাই এই মুহূর্তে বাবার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না ! তবে এই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়া জরুরী !
-বাবা , তুমি যা করেছ তা একজন জন্মদাতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছো মাত্র ! ওগুলো তোমার দায়িত্ব ।  একজন বাবা হিসাবে তুমি আমার সাথে কখনোই কোনদিনও বন্ধুর মতো মেশোনি ! আমি তোমাকে জীবনের একদিনও তোমাকে বন্ধু ভাবতে পারি নি ! আমি তোমাকে ভীষণ ভয় পেতাম ! তুমিই বল , ছেলে যদি বাবা কে ভয় পায় তাহলে ,সে শিখবে কি ? বাবা তুমি এখন যাও তোমার সাথে কথা বলতে আমার বিরক্ত লাগছে ! আমি এখন নেশা করবো !
বাবা আমার কষ্ট পেয়ে চলে যায় ! নাকি পিছন থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলের নষ্ট হওয়া দেখছে ! কে জানে !