শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

Think Global Not Local / জিপসি রুদ্র


জামায়াত শিবির বলছে “ যারা শাহাবাগে যাচ্ছে তারা নেশাখোর আর বেশ্যা” ।
আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকা প্রতিদিন অফিস এর কাজ শেষ করে রাতে বাসায় ফেরার আগে একবার শাহাবাগঃ প্রজন্ম চত্বরে যায়। রাজাকারের ফাঁসির দাবি নিয়ে। প্রায় মধ্যরাতে ঘামে ভিজে জুবুথুবু হয়ে বাসায় আসে । তারপর ফ্রিজ থেকে একগ্লাস বয়ফ ঠাণ্ডা পানি খায় । পানি খাওয়া শেষ হলে বলে “ If Possible I Will Fuck Them”.
আমি ধরে নিলাম “জামায়াত-শিবির” এর কথায় আমার বিশুদ্ধ প্রেমিকা একজন বেশ্যা।  এখন কথা হল একজন বেশ্যা যে মাটিতে দাঁড়িয়ে বেশ্যাবৃত্তি করে ওই মাটির পবিত্রতা রক্ষা করা তার নৈতিক দায়িত্ব। মাটির পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য একজন বেশ্যা রাজাকারের ফাঁসি দাবি করতেই পারে। এতে অপরাধ বা দৃষ্টিকটুর কোন ব্যাপার থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না । নাকি একজন বেশ্যা গণহত্যা, ধর্ষণ, খুন,ও অগ্নিসংযোগকারীর ফাঁসির দাবি করতে পারবেনা ?
জামায়াত ও শিবির’কে বলছি, মানুষের চিন্তা বদলেছে, সহনশীলতা ও  মানসিক ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে । এই সমস্থ সস্তা ও স্থুল কথা বলে মানুষের চিন্তায় ফাটল ধরাতে পারবিনা। Thing Global Not Local. তোদের ফাঁসি অনিবার্য। 

শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

নয়া চিন্তার বিস্ফোরণ... / জিপসি রুদ্র


আমার মা'র সাথে আমার চিন্তাগত দূরত্ব বেড়েই চলছে। গতকাল রাতে ভাত খেতে খেতে মা আমাকে বলল -
তুই এখন চাকরি-বাকরি করছিস, আল্লাহর রহমতে টাকা-পয়সাও ভাল কামাইতেছিস, বাড়ি-ঘর কিছু করবি বলে ঠিক করেছিস?
আমি বললাম-আমার বাড়ি-ঘর বাঁধার সাথে তোমার সম্পর্ক কি?
আমার বয়স হয়ে গেছে আমি আর কয়দিন। তোর বাপ যে ঘর দিয়ে গেছে এই ঘরে তো বেশিদিন থাকতে পারব না। বর্ষায় ঝুমাইয়া পানি পরে। তুই নতুন ঘর বাধলে ওখানে বাকি জীবনটা আরাম আয়েশে কাঠিয়ে দিতাম।
মা আমার ঘরে তুমি থাকবে কেন? আর আমি ঘর বানালে ওই ঘরে তোমাকে থাকতে দিব এইটা তোমারে কে বলল?
 মুখে ভাতের যে গ্রাসটা নিচ্ছিল সেটি মুখে না দিয়ে  প্লেটে নামিয়ে আনলো এবং হতবাক হয়ে আমাকে বলল-
তোর ঘরে আমাকে রাখবি না?
না।
কেন?
মা, আমি যদি একটা গরু পালন করার সিদ্ধান্ত নিই। তাহলে প্রথমে গরু কিনতে হবে। নাকি? মা কে প্রশ্ন করলাম।
মা উত্তর দিল, গরু’ত তুই জন্ম দিতে পারবিনা কিনতেই তো হবে।
আমি বললাম, তাহলে তুমি এখন আমাকে বলো গরু কিনে গোয়াল বাধবো নাকি গরু কেনার আগে গোয়াল বাধবো?
মা বলল, গরু কেনার আগে গোয়াল না বাধলে তুই গরুটা রাখবি কই?  
আমি বললাম তাহলে তুমি বুঝতে পারছ যে গরু কেনার আগে গোয়াল বাধতে হবে।
মা বলল, অবশ্যই।
তাইলে এখন বল আমার গোয়ালটা কই?
তোর গোয়ালটা মানে? আমারা কি তোর কোন দায়িত্ব পালন করিনি?
আমি যে একটা মানুষ আমার থাকার যে একটা ঘর দরকার ওই ঘরটা কই?
আমাকে যে তোমরা দুনিয়াতে আনলা তোমাদেরকে কি কেউ  বলছিল আমাকে  দুনিয়াতে আনতে? সম্পূর্ণ তোমাদের ইচ্ছায় এনেছ। তার মানে তোমরা একটা মানুষ আননি এনেছ অনেকগুলো দায়িত্ব। ভালবাসা এক জিনিস দায়িত্ব সম্পূর্ণ অন্য জিনিস। ভালবাসলে সওয়াব না বাসলে গুনা নাই। কিন্তু দায়িত্ব পালন না করলে গুনা। তোমারা আমাকে এনেছ বলে তোমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে বা হচ্ছে না আনলে হতনা। এখন কেন এত দায়িত্ব দায়িত্ব করছ। মা তোমারা আমাকে পরিকল্পিত ভাবে আননি আনলে আমার এত অনিশ্চিত ভবিস্যতের মাঝে হাঁটতে হতনা।
মা চুপ করে রইলেন। আমি জানি সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। এই কষ্ট আমি কোনদিন লাঘব করতে পারবনা। কিন্তু এর জন্য আমার কোন অনুশোচনা নেই। কারন আমি আমার ন্যায্য কথাটুকু বলেছি। এতে কেউ কষ্ট পেলে আমার কিচ্ছু করার নেই।
আমি যদি সন্তান আনার আগে সন্তানের থাকার ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে সন্তান আনবো  যদি না পারি তাহলে আনবো না । কারন আমি আমার পূর্ব প্রজন্ম থেকে যে কষ্ট পেয়েছি সে কষ্ট আমি আমার উত্তর প্রজন্মকে দিব না। পূর্ব প্রজন্ম যে ভুল করেছেন সে ভুলকে একটা জায়গায় চিরতরে থামিয়ে দিতে হবে। কারন কোন ভুল চলমান থাকতে পারেনা। আমার উত্তর প্রজন্ম হয়তো নতুন সমস্যা পাবে কিন্তু আমি যে সমস্যা পেয়েছি সে সমস্যা যাতে না পাই সে ব্যবস্থা আমাকেই করে যেতে হবে। এটা আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমি মনে করি।





নিসর্গ
২৩ কে.বি প্লাজা
চকবাজার, চট্টগ্রাম।


বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১২

ছাত্রলীগ তোর আল্লাহর দোহাই লাগে.../ জিপসি রুদ্র


১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি শেখ সাহেব যে আশা এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেছিলেন তার থেকে বাঙলাদেশ ছাত্রলীগ এখন যোজন যোজন মাইল দূরে সরে এসেছে।ছাত্রলীগের একটা গৌরব উজ্জ্বল সময় ছিল। বাঙলাদেশের অতীত ইতিহাস খতিয়েদেখলেযেআন্দোলন সংগ্রামের হদিস পাওয়া যায় তার সাথে ছাত্রলীগের একটা প্রত্যক্ষ অবদানছিল। তার মধ্যে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন ৬৯’র ১১ দফা আন্দোলন সর্বপরি ৭১’এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রলীগের অংশগ্রহন বীরোচিত।
এই গৌরব উজ্জ্বল অবদানের জন্য দেশের সাধারন মানুষের মনে ছাত্রলীগ এর জন্য একটা জায়াগা তৈ্রি হয়। মানুষ ছাত্রলীগকে ভালবাসতে শুরু করে। দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ তাদের আপন সংগঠন হিসাবে ছাত্রলীগকে গ্রহন করে। বাঙলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে মানসম্মত প্রচুর নেতার যোগান এসেছে ছাত্রলীগ থেকে। এককথায় বাঙলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে মেধা ও বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতির একমাত্র আদর্শ ছিল বাঙলাদেশ  ছাত্রলীগ।
স্বাধীনতা পূর্ব ছাত্রলীগ বাঙলাদেশে আশীর্বাদ কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর ছাত্রলীগ বাঙলাদেশে অবিশাপ। স্বাধীনতা উত্তর দক্ষিন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ এই ছাত্র সংগঠনটি নানা রকম কৃতকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এমন কোন ঘৃণ্য কাজ নেই যা ছাত্রলীগ করেনি। যত্রতত্র চাঁদাবাজি, গুম, ধর্ষণ, মানুষ খুন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সবই এই ছাত্র সংগঠনটি নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে।শিক্ষা প্রতিষ্টানে গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে ধারাবাহিকতা ছিল তা আজ বিলীন হয়েছে একমাত্র ছাত্রলীগের কারনে। কারনে অকারনে শিক্ষকের সাথে বেয়াদবি সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ভীতি প্রদর্শন ছাত্রলীগকে এখন জন বিচ্ছিন্ন ছাত্র সংগঠনে পরিনত করেছে। ছাত্রলীগ বললে আগে মানুষ যেখানে ভালবাসার দৃষ্টিতে মুল্যায়ন করতো এখন সেখানে ঘৃণার দৃষ্টিতে মুল্যায়ন করে। সাধারণ মানুষের মনে ছাত্রলীগ এখন একটি ত্রাস, হুমকি ও ক্ষতিকর সংগঠন। নৈতিক ভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া একটি ছাত্র সংগঠনের নাম ছাত্রলীগ।
একটা সময় ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তৃতা শুনে আমার মনে হত এদের কবিতা লেখার দরকার কি এদের এক একেটা বক্তৃতাই তো এক একেটা কবিতা। কিন্তু এখন মনে হয় কুকুরের ঘেউ ঘেউ। যেখানে আশার কোন বানী নেই আছে শুধু চামচামি আর গোলামি ।
সম্প্রতি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড দেখে আমি শিয়রে উঠেছি । থমকে গিয়েছি। আশাহত হয়েছি। নিজের মধ্যে নিজে বিলাপ করে বলেছি ছাত্রলীগ তোর আল্লাহর দোহাই লাগে এইবার একটু থাম। তোদের জন্মের সাথে যে মানুষটির নাম জড়িয়ে আছে ওই মানুষটি এই স্বাধীন বাঙলার স্থপতি। ওই মানুষটির নাম শুনলে মানুষ এখনও আবেগ-আপ্লুত হয়। বেঁচে থাকার সাহস পাই। কিন্তু তোদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না থামালে তোদের সাথে সাথে এই মহান পিতাকেও মানুষ ঘৃণা করতে শুরু করবে। তোদের আল্লাহর দোহাই লাগে স্বাধীন বাঙলায় তোরা এই মহান পিতাকে অবমুল্যায়নের সুযোগ দিস না। তোরা তোদের আগের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস মনে করে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিহার কর। মনে রাখিস দেশীয় রাজনীতিতে এখনও ছাত্রলীগের প্রয়োজন আছে। সেটি যেন সুস্থ সুন্দর ও মননশীল রাজনীতি হয়।


নিসর্গ
২৩,কে,বি প্লাজা
চকবাজার, চট্টগ্রাম
০১৭৩১৭৪৫৪১১ ০১৬৭৩০১১১৮০

বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট, ২০১২


কেউ যদি প্রশ্ন করে কবিতা কি বা কবিতার সংজ্ঞা কি? এর একটাই উত্তর হতে পারে, কবিতার স্থায়ী কোন ত্বত্তীয় সংজ্ঞা নেই তবে ব্যাখ্যা  আছে। কবি সাজিদুল হকের মতে “ কোনটি কবিতা আর কোনটি কবিতা নয় এই বিচার করার স্পর্ধা কারো থাকা উচিত নয়”।
তাহলে প্রশ্ন আসে কবিতার ব্যাখ্যাটা কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বাঙলার বিশুদ্ধ কবি জীবনান্দের কথা বলা যায় “ কোন কিছুর সর্ব উৎকৃষ্ট উপমাই হল কবিতা”। এখান থেকে ধারনা করা যাতে পারে লেখার বিষয়বস্তুর এমন উপমা হবে যার কোন বিকল্প শিল্পগুন সমৃদ্ধ আর কোন উপমা থাকবেনা।
এই প্রসজ্ঞে বাঙলার আরেক কবি মাইকেলের কথা বলা যেতে পারে “ শব্দের সর্ব উৎকৃষ্ট বিন্যাসেই হল কবিতা” । এখান থেকে ধারনা করা যেতে পারে লেখার মধ্যে এমন কোন শব্দ থাকতে পারবেনা যেটার উৎকৃষ্ট বিকল্প শব্দ আছে।
মানুষের চারিত্রিক সনদ দেয় কমিশনার বা চেয়ারম্যান আর কবিতার সনদ দিবে কবি নিজে । কবি নিজেই তার নৈতিক সমর্থনে বলে দিবে এটা কবিতা । 
দুঃখিত !!!! ভদ্র মানুষ ও সমাজ তোমাদের প্রতি আমি বিনয় হতে পারলামনা। 
তোমাদের প্রতি ক্ষোভ আমার এত বেশি যে তোমাদের পুটকি মারতে না পেরে আমি আমার গলির মুখের রাস্তাটাকে চুদে দিয়ে আসি ...।
দুঃখিত !!!! ভদ্র মানুষ ও সমাজ তোমাদের প্রতি আমি বিনয় হতে পারলামনা। 
তোমাদের প্রতি ক্ষোভ আমার এত বেশি যে তোমাদের পুটকি মারতে না পেরে আমি আমার গলির মুখের রাস্তাটাকে চুদে দিয়ে আসি ...।
স্তুল,কলোনিয়ান,অশিক্ষিত,বো্দায় ও অমননশীল চিন্তার মানুষের শিল্পকলার আসেপাশে ঘেঁষা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। শিল্পকলা সৃষ্টিশীল জায়গা । এখানে ছেলেপেলেরা এসে আড্ডা দিবে এটাই স্বাভাবিক। আর একটা সৃষ্টিশীল ও মননশীল আড্ডায় নিষিদ্ধ বলে কিছু থাকতে পারেনা। একজন মানুষ তার নৈতিক সমর্থনে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এখানে ছেলে মেয়ে ভাগ করা নৈতিকতা বিসর্জিত কাজ। কে বা কারা করে দিয়েছে এই আইন যে একজন মেয়ে প্রকাশ্যে সিগারেট খেতে পারবেনা ? একজন শিল্পীর কোন জাত নেই কোন লিঙ্গ নেই। তার পরিচয় সে শিল্পী। শিল্পকলায় এসে যারা মনে করে ও মেয়ে ও সিগারেট খেতে পারবেনা তাদেরকে চুদার চাইতে হস্তমৈথনে সুখ অনেক বেশি বলে আমি মনে করি।