মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৭

।। জেলখানার জিন্দেগী।।

জেলখানায় হাজতিদের লগে দুইভাবে দেখা করা যায় ।

এক। সরকারি ভাবে ।
দুই । ভিআইপি মর্যাদায় ।

সরকারি ভাবে দেখা করতে হলে আপনাকে সকাল আট টা থেকে বিকাল পাঁচটার আগে স্লিপ কাটতে হবে । কার সাথে দেখা করতে চান তার নাম তার বাবার নাম সে কোন ওয়ার্ডে থাকে- এই তথ্য গুলো দিয়ে । এইটা বিনামূল্যে হলেও কিছু টাকা দিতে হয় যারা স্লিপ লেখে তাদেরকে ।

স্লিপ কাটার পর আপনি একটা ঘরের ভিতরে অপেক্ষা করবেন । স্লিপ ভিতরে চলে গেলে ওয়ার্ড থেকে সেই লোকটিকে ডেকে আনা হবে আপনি যার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান । সে এসে খাঁচার ভেতর থেকে আপনার সাথে কথা বলবে আর আপনি খাঁচার বাইর থেকে কথা বলবেন । অনেক লোকজন থাকে বেশ চিল্লায় চিল্লায় কথা বলতে হয় । অনেক ভিড় থাকে । একজন কি বলছে আরেকজন তা অনেক সময় শুনতেও পায় না । বেশ কয়েকবার চিল্লায় চিল্লায় বলতে হয় ।

ভিআইপি ভাবে দেখা করতে হলে আপনাকে সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটার আগে ভিআইপি স্লিপ কাটতে হবে । কার সাথে দেখা করতে চান তার নাম তার বাবার নাম সে কোন ওয়ার্ডে থাকে- এই তথ্য গুলো দিয়ে । এই জন্য আপনার থেকে তেরশো টাকা দিতে হবে ।

স্লিপ কাটার পর আপনি বাইরে অপেক্ষ করবেন । স্লিপ ভিতরে চলে গেলে ওয়ার্ড থেকে সেই লোকটিকে ডেকে আনা হবে আপনি যার সাথে দেখা করতে চান । তারপর আপনাকে ভিতরে ঢুকানো হবে । ঢুকানোর পর আপনার হাতে একটা সিল দিয়ে দিবে । এই সিল হচ্ছে চিহ্ন । আপনি দেখা করতে এসেছেন । আর যার সাথে দেখা করতে এসেছেন তার হাতে একটা কলম দিয়ে একজন সাইন করে দিবে । সাইনের এর প্রমাণ হইলো এই লোক হাজতি । তারপর আপনারা সামনা সামনি মুখোমুখি হয়ে কথা বলতে পারবেন বিশ মিনিট । বিশ মিনিট শেষে সিল মারা লোকটিকে বের করে দিবে আর সাইন দেওয়া লোকটিকে ভিতরে ঢুকিয়ে দিবে ।

দেখা করতে এসে অনেকেই হাজতিদের টাকা দেয় । ভিআইপি ভাবে দেখা করতে এসে টাকা দিলে হাজতিকে ভিতরে ঢুকলেই একশো টাকা দিয়ে দিতে হবে জেলখানার জমাদারকে । নইলে সে সব টাকা নিয়ে ফেলবে চেক করে । এই চেক মানে পাছার জোরা পর্যন্ত চেক করে । টাকা একশো দিয়ে দিলে কতো টাকা দিলো তা আর দেখে না । আর যে আপনাকে ডেকে আনছে তাকে দিতে হবে পঞ্চাশ টাকা ।

আর যদি সরকারি ভাবে দেখা করতে এসে টাকা দেয় তাইলে হাজারে একশো টাকা করে দিয়ে দিতে হবে ।

জেলখানায় ক্যাশ টাকা অবৈধ । কিন্তু ক্যাশ টাকা ছাড়া জেলখানায় চলায় যায় না ! কি অদ্ভুদ না !

জেলখানায় কারো সাথে দেখা করতে আসলে অবশ্যই হাতে মিনিমাম তিন ঘণ্টার সময় নিয়ে আসবেন । কারণ এইখানে নিয়মের তোয়াক্কা সব সময় ঠিক থাকে না । একেক সময় একেক রকম হই যায় !

জেলখানায় কারো সাথে কেউ দেখা করতে আসলে তাকে বলা হয় "দেখা আসছে" । কোন হাজতি যদি একবার দেখা করতে যায় কারো সাথে সেটা সরকারি হোক আর ভিআইপি হোক হাজতিকে অবশ্যই ওয়ার্ডের একজন চেয়ারম্যান আছে যার কাজ হচ্ছে টয়লেট আর ওয়ার্ড পরিস্কার রাখা এবং পানি টানা । তাকে এক বান্ডিল বিড়ি দিয়ে দিতে হবে এবং সেইদিনের লক আপ দিতে হবে পঞ্চাশ টাকা । দেখা করতে এসে হাজতিকে টাকা দিক আর না দিক । বিড়ি আর লক আপের পঞ্চাশটাকা হাজতিকে দিয়ে দিতেই হবে ।

দিতে না পারলে হাজতি বুঝে মাইর নইলে মা বোন তুইলা গালি ! লক আপ মানে হইলো সকালে ওয়ার্ডের দরজা খুইলা দেওয়া আর বিকালে দরজা বাইন্ধা দেওয়া । জেলখানার একজন মিয়াসাব এই কাজটা করেন । তাকে দৈনিক পঞ্চাশটাকা করে দিয়ে দিতে হয় । এইটাকেই বলে লক আপ দেওয়া । মেট এই টাকাটা যারা দেখা করতে যায় মানে যাদের লগে দেখা করতে লোক আসে তাদের থেকে নিয়ে দে ।

তাই যারা হাজতিদের সাথে দেখা করতে যাবেন তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন হাজতিদের হাতে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে আসতে । হাজতিরাও দেখা করতে যায় কিছু টাকা পয়সা আর মামলার অগ্রগতি জানার আশায় ।

জেলখানার জিন্দেগী বড়ই নির্মম এবং নির্দয় । টাকা আছেতো ভালো টাকা নাইতো কষ্ট কষ্ট এবং অবর্ননীয় কষ্ট !

নুরুল আজিম রণি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ নেতার নাম ।

এই মূহুর্তে গোটা বাঙলাদেশের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ কায়েমে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ নেতার নাম নুরুল আজিম রণি ।

রণি যখন রাজনীতি শুরু করেছিলো তখন আওয়ামীলীগের এতো সুসময় ছিলো না । চারদিকে বিএনপি জামাতের দুর্নীতি , খুন , ধর্ষণ , সংখ্যালগুদের উপর হামলা , লুটপাট , অগ্নিসংযোগ এবং আওয়ামী অনুসারী নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা মামলা ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ।

বিএনপি জামাত ক্ষমতা ছাড়ার পর পর যখন জাতির উপরে চেপে বসলো সেনা সমর্থিত মঈনউদ্দিন ফখরুদ্দিনের সরকার তখন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্টানের ছাত্ররাজনীতিসহ সকল ধরনের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো ।

ঠিক সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ কায়েমে শপথ নেওয়া রণি ছিলো রাজপথের একজন নিয়মিত আন্দোলন কর্মী ।

তৎকালীন সময়ে এমন কোন আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মসুচি ছিলো না যেখানে রণি উপস্থিত থাকতো না । একদিকে পুলিশের লাঠি চার্জ অন্যদিকে , মামলা হামলার ভয় কোনটায় রণি'কে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নাই । আমার মনে হয় সেসময় রণি কখনো মনে করে নাই সে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হবে । অথবা সে কোন পদ পদবীর লোভে বাঙলাদেশের অত্যন্ত দুঃসময়ে এইসব আন্দোলন সংগ্রাম করছে । আমার মনে হয় তার রাজনৈতিক নীতি চেতনা আদর্শ এবং সততা তাকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাইতে সাহায্য করেছে ।

কিন্তু রণি মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর পর তার রাজনৈতিক শত্রু বাড়তে লাগলো । যার কোন শত্রু ছিলো না এখন তার শত্রুর সংখ্যা অগনিত । আমি যতদুর জানি সে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো কাছে চাঁদা চায় নাই । কারো জমি দখল করে নাই । এমনকি কাউকে মার্ডারও করে নাই । তাইলে তার এতো শত্রু কেনো চারপাশে ?

আমার কাছে মনে হয়েছে রণি রাজনৈতিক নীতি, চেতনা এবং আদর্শের উপর সৎ বলেই তার এতো শত্রু । আসুন কিছু কারণ খুঁজি নুরুল আজিম রণির এতো শত্রু কেনো ।

এক।
রণি মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরপর তার ফেইসবুক টাইমলাইনে নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ কায়েমে তার চিন্তা বিবেক বুদ্ধি এবং বোধশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নয়া প্রজন্মের মগজ দখল করার জন্য লেখালেখি শুরু করে অবিরামভাবে । এইসব লেখা পড়ে প্রচুর ছেলে মেয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রানিত হতে লাগলো । এবং এই জন্য উগ্রধর্মান্ধ জনগুষ্টির কাছে রণি হয়ে উঠলো একজন শত্রু ।

দুই।
প্রায় পচিশ বছর ধরে চট্টগ্রাম কলেজ এবং মহসিন কলেজ একাত্তরের ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাত শিবির এবং উগ্রধর্মান্ধদের দখলে ছিলো । স্থানীয় নেতার সমন্বয়ে কোন লাশ ছাড়াই রণি নিজের বিবেক বুদ্ধি এবং কৌশল কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ এবং মহসিন কলেজ ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ কায়েমসহ সকল প্রগতীশীল ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই দুই কলেজকে অভয়ারণ্য করে দিলো । আর ক্ষমতার একক ভাগ পাইতে স্থানীয় নেতা কর্মী সমর্থকরা রণির শত্রু হয়ে গেলো ।

তিন।
সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাস ভাড়া হাফ করার দাবীতে রণির আন্দোলনের কারনে এবং মুসলিম হাই স্কুলের মাঠ থেকে বাস ষ্ট্যান্ড সরিয়ে ছাত্রদের নিরাপদ খেলার মাঠ উপহার দেওয়ার জন্য বাস মালিক সমতির কাছে রণি হয়ে উঠলো একজন শত্রু ।

চার।
চট্টগ্রাম শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্টানগুলো ছাত্র ছাত্রীদের বোর্ড নির্ধারিত ফি'র চাইতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে রণির আন্দোলনের ডাকে সমস্থ ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবক সংহতি প্রকাশ করায় শিক্ষাপ্রতিষ্টানগুলো বাধ্য হয় অতিরিক্ত আদায়কৃত ফি ফেরত দিতে । এবং সেইসব শিক্ষাপ্রতিষ্টানের পরিচালকদের কাছে রণি হয়ে গেলো শত্রু ।

পাঁচ ।
চট্টগ্রামে আউটার স্টেডিয়ামে খেলার মাঠ দখল করে সুইমিংপুল বানানোর প্রতিবাদ , চট্টগ্রামে জলবদ্ধতা নিরসনে কতৃপক্ষের দিকে আঙ্গুল তুলে রণির নিয়মিত লেখালেখির কারণে সে হয়ে উঠে তার দলের ফায়দাবাজ পলিটিশিয়ানদের শত্রু ।

ছয়।
বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতা কর্মী খুন হওয়ার পর বিচার না হওয়ার অপসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এবং খুনের সাথে জড়িত নেতা কর্মী সমর্থকদের সরাসরি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় রণি হয়ে উঠে সেইসব নেতার কর্মী সমর্থকদের শত্রু ।

সাত।
আওয়ামীলীগে একাত্তরের রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাত শিবির থেকে আমদানিকৃত নেতাদের রণি সমর্থন না দিয়ে তথ্য উপাত্থ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করায় রণি হয়েছে তাদের শত্রু ।

আট।
রণি একাত্তরের সকল ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চায় এবং এই দেশে উগ্রধর্মান্ধ জনগুষ্টির বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ দিয়ে তাদের পরাস্থ করে নয়া প্রজন্মের মগজে অসাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে দিতে চায় । এই জন্যে সে ঘাতক দালাল এবং উগ্রধর্মান্ধদের চির শত্রু ।

এইরকম আরো অসংখ্য কারণ আছে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি'র শত্রু বাড়ার ।

তবে আমার কাছে মনে হয় ব্যাক্তিগত ফায়দা বা সামাজিক সম্মান হাসিল করার জন্য রণি'র শত্রু বাড়ে নাই । রণি'র শত্রু বেড়েছে সে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শের সাথে কোন রকম আপোষ-রফা করে নাই এই জন্য ।

রণি আমার দেখা সমসাময়িক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতির পিতার আদর্শ কায়েমে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ নেতার নাম ।

নুরুল আজিম রণি'র জন্য ভালোবাসা
নুরুল আজিম রণি'র জন্য শুভ কামনা ।

জয় বাঙলা
জয় বঙ্গবন্ধু ।

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

বন্ধু হিন্দুও হলেও ভালোবাসবো শত্রু মুসলমান হলেও ঘৃণা করবো ।

খালেদা জিয়া তার নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছে , তারা যেনো আর ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না দেয় এবং এইদেশে ভারতের প্রতি বিদ্বেষ না ছড়ায় ।

আমার কাছে মনে হয়েছে , খালেদা জিয়া নীতি, সততা, কৃতজ্ঞতা এবং আদর্শের উপর ভিত্তি করে বিএনপির নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের এই নির্দেশ দে নাই । এই নির্দেশ দিয়েছে একটা কৌশলগত কারনে । খালেদা জিয়া মনে করে , এই বাঙলাদেশে ভারতের ইশারা ছাড়া সরকার পরিবর্তন হয়না । বিএনপির নেতা কর্মীরা যদি এই মুহুর্তে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় তাহলে আগামী নির্বাচনে ভারত বিএনপি’কে সাহায্য সহযোগিতা করবে না । তাই খালেদা জিয়া বিএনপির নেতা কর্মী সমর্থকদেরকে কৌশলগত কারনে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে নিষেধ করেছে ।

এই বাঙলাদেশে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা যারা বলে তাদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । তাদের এক ভাগ মনে করে , ভারত হিন্দু রাষ্ট্র আর বাঙলাদেশ মুসলমান রাষ্ট্র । একজন মুসলমান হয়ে একটি হিন্দু রাষ্ট্রকে কোন ভাবেই সমর্থন করা যায় না । তাই তারা শুধুমাত্র ধর্মীয় গোঁড়াময় আবেগ অনুভুতি থেকে ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে । আরেকভাগ মনে করে , ভারত বাঙলাদেশের ব্যবসা বানিজ্য, শিল্প সাহিত্য, মানুষের আচার আচরণসহ সংস্কৃতির সকল শাখায় আগ্রাসন চালাচ্ছে । তাই তারা ভারতের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে ।

কিন্তু এই দুই ভাগের একভাগও মনে রাখে নাই , বাঙলাদেশের জন্মযুদ্ধে ভারতের অবদান । ভারত বাঙলাদেশের জন্য কি কি করেছে । পৃথিবীর একটি দেশ আরেকটি দেশের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য এতো ত্যাগ স্বীকার করেছে কি না আমার জানা নাই ভারতের মতো । এক কোটি মানুষকে থাকতে দিছে । নয় মাস ধরে খাওয়াইছে । চিকিৎসা দিছে । মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিছে । গোলাবারুদ দিছে । ট্রেনিং দিছে । বাঙলার মানষের মুক্তির জন্য ভারতের প্রায় চারহাজার সন্য জীবন দিছে এবং আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইন্দিরাগান্ধী বিশ্বসফর করছে । বাঙলাদেশের জন্মযুদ্ধে ভারত যে মানবিকতা এবং বন্ধুর পরিচয় দিছে এই দেশের জনগনের প্রতি তা একজন বাঙালি হয়ে অস্বীকার করলে নিশ্চয় বাঙালির ইজ্জত বাড়বে না !

জন্মযুদ্ধে পরাজিত হওয়া শক্তি ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাতিরা ভারতের এই সাহায্য সহযোগিতা মেনে নিতে পারে নাই । তাই তারা একাত্তরেও এই দেশে অপপ্রচার চালাইছিলো পাকিস্তানীদের পক্ষ হয়ে । তারা বলতো, পাকিস্তান মুসলমান রাষ্ট্র এবং বাঙালিদের বেশির ভাগও মুসলমান । ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ করার কোন দরকার নাই । দেশ স্বাধীন হওয়ারও কোন দরকার নাই । যারা দেশের স্বাধীনতা চায়, যারা দেশ ভাগ চায় তারা ভারতের দালাল তারা মুসলমান না । আর ভারতের দালাল মানে হিন্দুদের দালাল ।

ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের এই যে দেশপ্রেমহীন ধর্মীয় গোঁড়াময় অপরাজনীতি তা তারা স্বাধীনতা পরবর্তী ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙলাদেশেও ছড়িয়ে দিচ্ছে । তারা ভারতের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে এই দেশের মানুষের ভেতর পাকিস্তানের প্রতি প্রেম ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে চায় । জন্ম দিতে চায় ধর্মভিত্তিক পশ্চাৎপদ একটি রাষ্ট্রের । আর তাতে পানি দিচ্ছে এই দেশের বিএনপি ।

এইদেশে বিএনপি হলো জন্মযুদ্ধে পরাজিত শক্তি ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী জামাতিদের রক্ষাকবচ । তাই বিএনপি জামাতিদের পক্ষ হয়ে জামাতিদের ফায়দা দেওয়ার জন্য এই দেশে ভারত বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু মুসলমান ইস্যুটিকে জিইয়ে রাখে । এই বিএনপির জন্যই মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাঙলাদেশ গড়া সম্ভব হচ্ছে না ।

বন্ধু হিন্দুও হলেও ভালোবাসবো
শত্রু মুসলমান হলেও ঘৃণা করবো ।
ভারত হিন্দু হলেও বাঙলাদেশের বন্ধু
পাকিস্তান মুসলমান হলেও বাঙলাদেশের শত্রু ।
ভারতকে ভালোবাসি
পাকিস্তানকে ঘৃণা করি ।

জয় বাঙলা ।

বুধবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৭

।। তানিয়া ও জিনিয়ার গল্প ।।

তারা দুই বান্ধবী । মফস্বলের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে শহরে এসেছে অনার্সে পড়তে । থাকে মেসে । তারা কয়েকজন কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে মিলে একটা বিল্ডিংযে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে । সেখানের একটা রুমে তানিয়া আর জিনিয়া থাকে ।
তারা দুইজনই খুবই সংস্কৃতিমনা । মফস্বলে থাকতে তারা টেলিভিশনে নাটক সিনেমা দেখতো আর রেডিওতে গান শুনতো । টেলিভিশনে শাবানা আর শাবনুরের অভিনয় দেখে তাদের ভিতর অভিনয়ের বাসনা জাগে । গ্রামেতো আর অভিনয়ের তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নাই তাই তারা শহরে এসে অভিনয়ের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয় ।
তানিয়া খুবই শান্ত প্রকৃতির মেয়ে । আর জিনিয়া একটু চটপটে স্বভাবের । একদিন তারা দুইজন শিল্পকলা একাডেমিতে এসে অভিনয়ের ব্যাপারে ধারনা নিয়ে যায় । তারা জানতে পারে , শিল্পকলায় বিভিন্ন থিয়েটার গ্রুপ আছে যারা অভিনয় শেখায় । সেখানে ভর্তি হলেই তারা অভিনয় শিখতে পারবে এবং তারাও আস্তে আস্তে শাবানা শাবনুরের মতো দেশ কাঁপানো অভিনয় শিল্পী হয়ে উঠতে পারবে ।
জিনিয়া বুঝতে পারে , এইভাবে অভিনয় শিখে অভিনয় শিল্পী হতে হতে তার জীবন শেষ হয়ে গেলেও তাকে কেউই চিনবে না শুধুমাত্র শিল্পকলায় আসা থিয়েটারপ্রেমীরা ছাড়া । তাকে আরো কোন সহজ এবং সরল পথ খুঁজে বের করতে হবে । যাতে সে তাড়াতাড়ি সিনেমার নায়িক হয়ে উঠতে পারে ।
তানিয়া শিল্পকলার একটা থিয়েটার গ্রুপের ফরম কিনে তাদের সদস্য হয় । আর জিনিয়া সহজ ও সরল পথ খুঁজতে থাকে । তানিয়া থিয়েটারে ভর্তি হওয়ার পর থাকে একটা নাটকের স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয় । সেখানে তার চরিত্রটি হচ্ছে, কেন্দ্রীয় চরিত্রের ছোট বোন । তাকে বলা হয় , নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্র এবং সংলাপ খুব ভালো ভাবে পড়তে এবং বুঝতে । আর উচ্চারণের ব্যাপারটিও যেনো খুবই শুদ্ধ এবং সাবলীল হয় ।
প্রত্যেকদিন তানিয়া এবং জিনিয়া কলেজের ক্লাস শেষ করে রুমে আসে । রুমের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে জিনিয়া ঘুমিয়ে পড়ে আর তানিয়া স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে থাকে আর আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করে । আর শুক্রবারে একদিন শিল্পকলায় যায় এবং সেখানে গ্রুপের সদস্যদের সাথে খুবই মনোযোগ দিয়ে রিহার্সেল করে । তানিয়া যখন রিহার্সেল করে তখন জিনিয়া শিল্পকলার বাইরে ঘুরতে থাকে । আর সে বুঝতে চেষ্টা করে শিল্পকলার পরিবেশ পরিস্থিতি ।
জিনিয়া দেখতে পায় শিল্পকলার বাইরে ছেলেপেলেদের ছোট ছোট বেশ কয়েকটি গ্রুপ আছে । তাদের কেউ কেউ বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা মারছে , কেউ ফুটপাতের পাশে বসে বিড়ি গাঁজা টানছে , আবার কেউ গোল হয়ে বসে গান বাজনা করছে ।
জিনিয়া চিন্তা করলো , তাকে এমন একটি গ্রুপ খুঁজে বের করতে হবে যে গ্রুপে মিশে গেলে তার সাথে মিডিয়ার কারো না কারো সাথে পরিচয় হবে । যে গ্রুপটি গান বাজনা করছে তাদের একজনকে গিয়ে বলে, ভাইয়া আমি কি বসতে পারি আপনাদের সাথে? সে বলে, অবশ্যই । বসে পড়ুন আর গান শুনতে থাকুন । জিনিয়া সেদিন তানিয়ার রিহার্সেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত গান বাজনা শুনেছে । আর দুই একটান বিড়ি টেনেছে । জিনিয়া জানে বিড়ি খুব দ্রুত গ্রুপের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে ।
পরের সাপ্তাহেও তানিয়া রিহার্সেল করতে চলে গেলো আর জিনিয়া রাস্তায় ফুটপাতে বসে পুরনো গ্রুপের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে । গ্রুপের মধ্যে একজন ছেলে আসছে যার ক্যামেরা আছে । সে গ্রুপের আড্ডার ছবি তুলছে । আর সে ছবি তোলার পর বসেছে জিনিয়ার পাশে । জিনিয়াকে ছবি কেমন হয়েছে তা ক্যামারার মনিটরে দেখাচ্ছে । জিনিয়া নিজের ছবি ক্যামেরায় দেখে বেশ মুগ্ধ । আসলেই সে অনেক সুন্দর । সে ছেলেটিকে বললো, ভাইয়া আপনি কি ছবি গুলো আমার ফেইসবুকে ইনবক্স করতে পারবেন? ছেলেটি বললো , অবশ্যই ।
ছেলেটি জিনিয়ার ফেইসবুক আইডিটি নিয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়ে দিলো । আর বললো, ফোন নাম্বারটি দিতে । জিনিয়া ছেলেটিকে ফোন নাম্বার দিলো । আর ছেলেটি ফোন নাম্বার সেইভ করে একটা মিস কল দিলো । জিনিয়া জিজ্ঞাস করলো, ভাইয়া আপনার নামটা , ছেলেটি বললো, তানভীর । জিনিয়া নাম্বারটা সেভ করে বলল, ভাইয়া আপনি ছবিগুলো ইনবক্স করে আমাকে একটা ফোন দিয়েন । ছেলেটি বললো , অবশ্যই ।
তানিয়া রিহার্সেল থেকে বের হয়ে জিনিয়ার কাছে এসে বললো , এই চল আমার রিহার্সেল শেষ । আমাকে তোকে নিয়ে ফটোকপির দোকানে যেতে হবে । কিছু কাজ আছে । জিনিয়া গ্রুপের সবাইকে টা টা বলে উঠে গেলো ।
জিনিয়া জিজ্ঞাস করলো তানিয়াকে, এই রিহার্সেল কেমন চলছে । তানিয়া বললো, বেশ কঠিনরে । মনে করেছিলাম অভিনয় খুবই সহজ এবং সরল কিন্তু এখন মনে হচ্ছে । অভিনয় আসলে বিশাল একটা ব্যাপার । থিয়েটারে না ঢুকলে বুঝতেই পারতাম না ।
জিনিয়া বলে , আজ এতোদিন হয়ে গেলো তোর নাটক আসলে মঞ্চস্থ হবে কবে ? জিনিয়া মুখ ভেঙচিয়ে বলে , এতো সহজ অভিনয় ! আগে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করো তারপর ডায়লগ ডেলিভারি প্র্যাকটিস করো তারপর এক্সপ্রেশন আরো কতো কি ! জিনিয়া বলে, তো নাটক মঞ্চস্থ হবে কবে ? তানিয়া বলে, সে অনেক দেরি । আমার কথা বাদ দে তোর কথা বল । জিনিয়া বলে , আমি শর্টকার্ট লাইন খুঁজতাছি । তানিয়া বলে, পাওয়া গেছে তোর শর্টকার্ট লাইন । জিনিয়া বলে, হু ।
রাতের বেলায় জিনিয়ার মোবাইলটা কেঁপে উঠলো । স্ক্রিনে নাম দেখে তানভীর । সে ফোনটা ধরে বলে, হ্যালো । ওপাশ থেকে তানভীর বলে , হ্যালো কিউটি বেবি তোমার ছবি ইনবক্স করে দিয়েছি । দেখো তারপর আমায় জানাও । ফোনের লাইন কেটে জিনিয়া ফেইসবুক ইনবক্স চেক করে । দেখে ছবিগুলোতে থাকে খুবই সুন্দর লাগছে । সে নিজের ছবি দেখে নিজেই মুগ্ধ । সাথে সাথে ডাউনলোড করে সে ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে দিলো । ছবির ক্যাপশন লিখলো , কিউটি বেবি !
ফোন দিলো তানভীরকে । তানভীর ফোন রিসিভ করেই বললো, এতো দেরি কেনো ? জিনিয়া বললো, ভাইয়া ফেইসবুকে ছবি আপলোড করে তারপর আপনাকে ফোন দিয়েছি । তানভীর বললো, নো ভাইয়া আর নো আপনি । অনলি তানভীর আর অনলি তুমি ডাকবে । জিনিয়া বললো , ওহ তাই ! তানভীর বললো, হুম তাই’ই । তানভীর বললো, কাল তুমি ফ্রি আছো ? জিনিয়া বললো , হ্যাঁ ফ্রি আছি । সে বললো , কাল তুমি সমুদ্র পাড়ে এসো তোমার কিছু ফ্যাশন ফটোগ্রাফি করে দিবো । জিনিয়া বললো , ওহ রিয়েলি ! আমি খুবই এক্সাইটেট ! তানভীর বললো, এর চাইতে আরো বেশি এক্সাইটমেন্ট অপেক্ষা করছে তোমার জন্য যদি আমার সাথে ইজি গোয়িং একটা সম্পর্ক তৈরি করো । জিনিয়া বললো , তানভীর আমি তোমার সাথে খুবই ইজি । নো প্রবলেম ।
কথা শেষ হওয়ার পর , জিনিয়া ফেইসবুকে ঢুকে দেখলো এক ঘন্টায় তার লাইক পড়েছে তিনশো চুয়াল্লিশটা ! কমেন্টস একশো চারটা ! ইনবক্সে মেসেজ সাতান্নটা ! জিনিয়া পুরাই শকড ! যার আগে লাইকের সংখ্যা থাকতো সত্তর থেকে আশিটা সেখানে এতো লাইক এতো কমেন্টস এতো ইনবক্স ! জিনিয়া ভাবতেই পারছে না !
জিনিয়াকে অনেকেই ইনবক্সে অফার করেছে । মিউজিক ভিডিও, নাটক এবং শর্টফিল্মে অভিনয় করার প্রস্তাবও এসেছে দুই একটা ! জিনিয়া বুঝতে পারল , সে লাইন পেয়ে গেছে ! খুব শিগ্রই তার স্বপ্ন তার হাতে ধরা দিবে !
সকাল বেলা কলেজে যাওয়ার সময় জিনিয়া তানিয়াকে তার এই ঘটনা জানালো । তানিয়া বললো , এতোই সহজ অভিনয় ! ডিএসএলআর ক্যামেরায় ছবি তুলে ফেইসবুকে পোষ্ট করলেই অভিনয় শিল্পী হওয়া যায় ! জিনিয়া বললো , তাইতো মনে হচ্ছে !
জিনিয়া দুই একটা ইনবক্সের টেক্সট তানিয়াকে দেখালো । তানিয়া বললো , আমি শুনেছি এইসব শরীর ভোগের টোপ । মিউজিক ভিডিও, নাটক আর শর্টফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার নাম করে শরীর ভোগ করে । জিনিয়া বললো , সে আমি জানি । আমার টার্গেট অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের খ্যাতি এবং টাকা আয় করা । সেখানে আমার শরীর একটা টোপ তাদের জন্য । তানিয়া বললো , তুই আর ভালো হইলি না ! জিনিয়া বললো তানিয়াকে , তুই ভালো হয়ে মুড়ি খা আর আমি খারাপ হয়ে খ্যাতি আর টাকা কামায় !
জিনিয়া তার সবচাইতে ভালো কাপড়টি পড়ে সমুদ্র পাড়ে গেলো । সেখানে তানভীর আর তার এক বন্ধু রাতুল জিনিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে । জিনিয়ার সাথে তানভীর রাতুলের পরিচয় করায় দিলো । বললো, রাতুল মিউজিক ভিডিও , নাটক এবং শর্টফিল্ম বানায় । সে জিনিয়াকে দেখতে আসছে । জিনিয়া রাতুলের সাথে বেশ হাঁসি খুশি হয়ে পরিচিত হল । ছবি তোলার পর তারা খাওয়া দাওয়া করলো । খাওয়া দাওয়ার এক পর্যায়ে তানভীর বললো, রাতুলের বাসা খালি আছে । আজ রাত জিনিয়া রাতুলের বাসায় থাকতে পারবে কি না । জিনিয়া বললো , রাতে থাকা তার জন্য কোন সমস্যা না তবে কোন কাজ ছাড়া রাতে থেকে কি ফায়দা ? রাতুল বললো, তার স্ক্রিপ্ট নিয়ে রাতে জিনিয়ার সাথে কথা বলতে চায় । সাথে তানভীরও থাকবে । আরও একটি মেয়ে থাকবে তাদের সাথে । গল্প হবে আড্ডা হবে নেশাও হবে । জিনিয়া বললো , বাসা যদি সিকিউর হয় তাইলে সে রাতে থাকতে পারবে । সমস্যা নাই ।
রাতুলের বাসাটা বেশ সুন্দর । বুঝায় যায় পয়সাওয়ালা বাপের পোলা । দুই একটা মিউজিক ভিডিও বানাইছে । এখন একটা শর্টফিল্ম বানাবে । সেই শর্টফিল্মের একটা চরিত্র জিনিয়াকে দিবে । জিনিয়াও জানে এইজন্যে তাকে রাতুলের সাথে শুইতে হবে । কারো সাথে ফায়দা হাসিলের জন্য শোয়া জিনিয়ার জন্য কোন ব্যাপারই না !
রাতুলের বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে ফিরার সময় রাতুলকে বলল জিনিয়া তার কিছু টাকা লাগবে , রাতুল জিজ্ঞাস করলো , কতো ? জিনিয়া বললো , হাজার তিনেক । রাতুল জিনিয়াকে তিন হাজার টাকা দিয়ে বলে , বেবি ডাকলেই এসো । এই লাইনে প্রচুর টাকা । জিনিয়া বলে , গোপনীয়তা মেনটেইন করলে অবশ্যই যখনই ডাকবে তখনই পাবে । রাতুল বলল, মেয়েদের গোপনীয়তা আমি রক্ষা করি ।
জিনিয়া সকালে বাসায় আসার সময় তানিয়ার জন্য একটা বডিস্প্রে একটা ঘড়ি আর একটা বার্গার নিয়ে আসলো । তানিয়া বলল, এইসব কোথা থেকে ? জিনিয়া বললো , তুই আমার জানে জিগার দোস্ত । মার্কেটে গেছিলাম আর তোর জন্য নিয়ে আসলাম । তানিয়া ঘড়ি , বডিস্প্রে উপহার পেয়ে খুবই খুশি !
বার্গার খেতে খেতে তানিয়া জিজ্ঞাস করে, রাতে কই ছিলি ? জিনিয়া বলে , একজন উঠতি ডিরেক্টরের সাথে । এই কথা শুনে তানিয়ার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো ! জিনিয়া বলে , বার্গার খা । খুবই ভালো বার্গার কেএফসি’র বার্গার । তানিয়া বলে , তুই ডিরেক্টরের সাথে সেক্স করেছিস ? জিনিয়া বলে , হ্যাঁ । শুধু সেক্স না দোস্ত । মদ গাঁজাও খেয়েছি । কালকের রাতটা বলতে পারিস আমার এই বয়সের সেরা রাত ! তানিয়া বলে , তুই আর ভালো হইলি না ! জিনিয়া বলে , তুই ভালো হয়ে আপাতত বার্গার খা আর তারপর পানি খাইস ! আমি বাথরুমে ন্যাংটো হয়ে গোসল করবো অনেকক্ষণ । এর মধ্যে তুই আমার জন্য এককাপ গরম গরম চা বানাই রাখবি । আমি যেনো গোসল সেরে আরামচে চা খাইতে পারি !
তানিয়ার আজকে প্র্যাকটিস আছে । প্র্যাকটিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ন । আগামী সাপ্তাহে শিল্পকলার হল রুমে তাদের নাটক মঞ্চস্থ হবে । তাই সকলের চরিত্র ঠিকঠাক ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে । যারা যারা চরিত্র ঠিকঠাক তুলতে পারবে না । তারা তারা বাদও পড়তে পারে । তানিয়া চায় না সে বাদ পড়ুক । তাকে অভিনয় শিল্পী হতেই হবে । সে খুব মনোযোগ দিয়ে রিহার্সেল করছে । তার ধ্যানজ্ঞান আপাতত শুধুই অভিনয় ।
আর বাইরে যথারীতি জিনিয়া ফুটফাতে বসে আড্ডা দিচ্ছে । এমন সময় একটা ফোন আসলো , হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে পরিচয় দিলো , রাতুল । আগামী পরশু শুটিং আছে কক্সবাজার দুই দিন থাকতে হবে । জিনিয়া কি যেতে পারবে ? জিনিয়া বললো , যেতে পারবে । তবে কতটাকা দিবে তাকে? রাতুল বললো , পঁচিশ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার দিবে । সে বললো , সে রাজি তবে তাকে হাফ এডভান্স করতে হবে । বাকিটা কাজ শেষে । রাতুল বলল, সে কথা বলে জানাবে ।
তানিয়া রিহার্সেল শেষ করে বের হয়ে জিনিয়ার কাছে এসে বসলো । জিনিয়া জিজ্ঞাস করলো , কিরে তোর রিহার্সেল কেমন হলো ? তানিয়া বললো , বেশ ভালো হয়েছে । তো তোর মন খারাপ কেনো ? তানিয়া বলল , ফ্যামেলিতে টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যা চলছে । এই মাসে টাকা পাঠাতে পারবে না । মেস ভাড়া খাওয়া খরচ কলেজের যাতায়ত কিভাবে ম্যানেজ করবে তা বুঝতে পারছি না ! জিনিয়া বললো , নো প্রবলেম বেবি ! মে হু না !
তানিয়া বললো , মে হু না মানে কি ! তোর ফ্যামেলির খবরতো আমি জানিই ! তোর খরচ চালাইতে হিমশিম খায় ! তুই আমার খরচ চালাইবি কেমনে ! জিনিয়া বলে , আমিতো আর তোর মতো ভোদাই না ! আমি জীবনকে চালাইতে জানি । তুই টেনশন নিস না ! আমার একটা কাজের অফার আছে । কাজটা হলে প্রায় পচিশ হাজার মতো টাকা পাবো । আর এতেই তোর আর আমার আরামচে বেশ কয়েকমাস কেটে যাবে !
তানিয়া বলে , কি বলিস তুই ! আমি এতো দিন অভিনয় শিখে একটা নাটক মঞ্চস্থ করতে পারছি না ! আর তুই শিল্পকলায় আড্ডা দিয়ে গাঁজা বিড়ি খেয়েই অভিনয় করবি ! জিনিয়া বলে , একেই বলে দোস্ত অভিনয় শিল্পী হওয়ার শর্টকার্ট রাস্তা !
রাতে জিনিয়ার নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসে । জিনিয়া ওপেন করে দেখে বিকাশ করা হয়েছে তার নাম্বারে পনেরো হাজার টাকা । জিনিয়ার চোখ কপালে উঠে গেছে । বিশ্বাসই হচ্ছে না ! এর মধ্যে রাতুলের ফোন আসে । জিনিয়া ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে রাতুল জিজ্ঞাস করে , টাকা আসছে কি না ? জিনিয়া বলে । হ্যাঁ টাকা আসছে । রাতুল বলে , কাল সকাল দশটায় শিল্পকলায় অপেক্ষা করতে সেখান থেকে একজন লোক তাকে পিক করবে । যে পিক করবে সে প্রডিউসার । প্রডিউসারের নাম্বার তাকে টেক্সট করে দেওয়া হয়েছে । জিনিয়া বলে , নো প্রবলেম । সে উপস্থিত থাকবে ।
সকালে যাওয়ার আগে বাসার নিচের দোকান থেকে ক্যাশ আউট করে পাঁচ হাজার টাকা তানিয়াকে দিয়ে জিনিয়া বলে , আমি দুই তিনদিন কক্সবাজার থাকবো । তুই টেনশন করিস না । এই টাকা দিয়ে তুই চল । আমি কক্সবাজার থেকে এসে আমরা আর এই মেসে থাকবো না । আমি আর তুই একটা আলাদা ফ্ল্যাট নিবো । সেখানে তুই আর আমি থাকবো ।
তানিয়া বলে , কি বলিস তুই ! এতো টাকা পাবো কই আমি ! জিনিয়া বলে , তোর টাকা পাইতে হবে না ! টাকা পাবো আমি । তুই শুধু খাবি পড়বি আর অভিনয় শিখবি ! আর টেনশন নিস না ! তুই একটা বাসা খোঁজ তিন রুমের । দুই বাথ ড্রয়িং ডাইনিং আলাদা এবং অবশ্যই যেনো বেলকনি থাকে ।
তানিয়া জিনিয়াকে বলে , তুই আর ভালো হইলি না ! জিনিয়া তানিয়াকে বলে , তুই ভালো হয় হা পিত্তেস কর আর আমি আমার মতো জীবন যাপন করে টাকা আর খ্যাতি কামাই !
তানিয়ার আজ নাটক মঞ্চস্থ হবে । কিন্তু তার আজ মনটা খুবই খারাপ । কারণ জিনিয়া দেখতে পারছে না তার অভিনয় । জিনিয়া দেখলে তার খুবই ভালো লাগতো । রাতের বেলায় তার সাথে অভিনয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করা যেতো । কিন্তু সে গেছে কক্সবাজার । তার বেশ রাগ লাগছে । মাথা থেকে জিনিয়ার অনুপস্থিতি তানিয়া কোন ভাবেই নামাতে পারছে না । এর মধ্যে বেল বেজে উঠলো । মানে একটু পরেই সবাইকে মঞ্চে উঠে যেতে হবে । নাটক শুরু হবে । তানিয়া চেষ্টা করছে , জিনিয়ার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দেওয়ার কিন্তু সে কোন ভাবেই বাদ দিতে পারছে না । সে ভাবছে , তার অভিনয় কেমন হয়েছে তা কাকে সে জিজ্ঞাস করবে !
জিনিয়ার শুটিং শুরু হয়েছে । পরিচালক তাকে কি কি করতে হবে সব বুঝিয়ে দিয়েছে রাতে । সাথে প্রডিউসারও ছিলো । পরিচালক এবং প্রডিউসার জিনিয়াকে বলেছে , অভিনয় হলো ডিরেক্টর নির্ভর একটি আর্ট । যে আর্টিষ্ট ডিরেক্টরের সাথে খুব সহজ সুন্দর এবং ইজি গোয়িং সম্পর্ক তৈরি করতে পারবে । সে আর্টিষ্ট খুব দ্রুত মিডিয়ায় উপরে উঠতে পারবে । আর মিডিয়ায় উপরে উঠতে হলে পরিচালক এবং প্রডিউসারের সাথে খুব সহজ সুন্দর এবং ইজি গোয়িং সম্পর্ক রাখতে হয় ।
জিনিয়া মিডিয়া কি সেটি বুঝে যায় । আর সে ডিরেক্টর এবং প্রডিউসারের সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক মেইন্টেইন মানে কি তাও জেনে যায় !
শুটিং শেষে প্রডিউসার জিনিয়াকে বলেছে , তার আচার আচরন এবং কাজে সে খুবই সুন্তষ্ট । আগামী মাসে তার একটা টেলিফিল্মের জন্য সে জিনিয়াকে ব্যাংকক নিয়ে যেতে চায় । জিনিয়া যেতে পারবে কি না ? জিনিয়া প্রডিউসারের কাছে জানতে চায় , কয়দিনের জন্য এবং কতো টাকা দিবে ? প্রডিউসার জিনিয়াকে বলে , পনেরো দিনের জন্য এবং এর জন্য এক লাখ টাকা পেমেন্ট দিবে । জিনিয়া বলে সে যেতে পারবে এবং তার জন্যে ফিফটি পার্সেন্ট টাকা এডভান্স দিতে হবে নগদ । আর ফিফটি পার্সেন্ট কাজ শেষে । প্রডিউসার বলে , নো প্রবলেম ।
জিনিয়া কক্সবাজার থেকে প্রডিউসারের সাথে ফ্লাইটে ফিরলো । প্রডিউসার তাকে বাসায় নামিয়ে দিতে ছেয়েছিলো । কিন্তু জিনিয়া বলেছে , সে একাই বাসায় যেতে পারবে । জিনিয়ার এখন স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে । সে থিয়েটারে অভিনয় না শিখেও এখন অভিনয় করতে পারছে এবং টাকা কামাতে পারছে । তার শর্টকার্ট ফর্মুলা বেশ সুন্দর কাজে লেগেছে ।
জিনিয়া মার্কেটে গিয়ে তানিয়ার জন্য তিনটা জামা এবং দুই জোড়া জুতা, বেশ কিছু নামী ব্র্যান্ডের ফারফিউম, প্রসাধনী আর একটা দামী মোবাইল সেট কিনলো । তারপর বাসায় ফিরলো ।
তানিয়া জিনিয়াকে দেখে চিনতেই পারছে না ! তার হেয়ার স্টাইল তার গেট আপ মেকাপ জিনিয়াকে বদলে দিয়েছে । জিনিয়া তানিয়াকে জড়িয়ে ধরে বললো, দোস্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে । আমি আগামী মাসে ব্যাংকক যাচ্ছি পনেরো দিনের জন্য । একলক্ষ টাকা পেমেন্ট । এই নে তোর জন্য জামা কাপড় জুতা প্রসাধনী আর মোবাইল । তানিয়া বলে, আমি আজ এতোদিন থিয়েটার করে এক টাকাও কামাইতে পারলাম না আর তুই শিল্পকলার ফুটপাতে বসে গাঁজা বিড়ি খেয়ে এতো টাকা কামাইতেছিস ! তোর শর্টকার্ট লাইনতো তোর ভালোই কাজে লাগছে !
জিনিয়া তানিয়াকে বলে , দোস্ত অভিনয় হইলো ডিরেক্টর নির্ভর একটা আর্ট । অভিনয় দিয়ে তুই যদি টাকা ইনকাম করতে চাস তাইলে তোকে ইজি গোয়িং হতে হবে । ডিরেক্টর এবং প্রডিউসারের সাথে শুইতে হবে । না শুইলে টাকা কামাইতে পারবি না । অভিনয় করতে পারবি কিন্তু অভিনয় করে জীবন চালাইতে পারবি না । তোরা যারা থিয়েটারে অভিনয় করিস তারা অভিনয় করতে পারবি বাট অভিনয় করে জীবন চালাইতে পারবি না ।
তানিয়া জিনিয়াকে বলে , আমার অভিনয় করে জীবন চালাইতে হবে না । আমি অভিনয় করে শুধু সম্মানটুকু কামাইতে চাই । অভিনয়ের নাম দিয়ে ডিরেক্টর এবং প্রডিউসারের সাথে শুইয়ে আমার টাকা কামানো লাগবে না । অভিনয় আমার কাছে একটি নেশা এটি আমার কাছে পেশা নয় ।
জিনিয়া তানিয়াকে বলে , দোস্ত অভিনয় আমার কাছে পেশা । এইটাকে আমি পেশা হিসাবে নিলাম । এবং এই পেশায় আমাকে টিকে থাকতে হলে আমাকে ডিরেক্টর এবং প্রডিউসর নির্ভর হইতে হবে । কারণ এই পেশায় ডিরেক্টর এবং প্রডিউসররাই হলো ঈশ্বর । আর ঈশ্বর যদি কোন আর্টিষ্টের উপর খুশি থাকে তাহলে ওই আর্টিষ্টের কাজের অভাব হবে না । আর কাজ মানে অঢেল টাকা । আর টাকা মানে সম্মান সামাজিক খ্যাতি নাম যশ সবই !
জিনিয়া তানিয়াকে জিজ্ঞাস করে , বুঝা গেছে ব্যাপারটা ?
জিনিয়া তানিয়াকে বলে, তুই আর ভালো হইলি না !
তানিয়া জিনিয়াকে বলে, তুই ভালো হইয়া মুড়ি খা আর আমি ডিরেক্টর আর প্রডিউসারদের খুশি কইরা ব্যাংকক যাইগা !

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

আমরা চাই , আওয়ামীলীগ জিতলে জিতুক গোটা বাঙলাদেশ জিতুক গোটা বাঙলাদেশের মানুষ ।

আওয়ামীলীগ সরকার টানা ক্ষমতায় । বিএনপি জামাত হেফাজত সরকার ও আওয়ামীলীগরে বহুবার চেষ্টা করেও বেকাদায় ফেলতে পারে নাই । তারা অবশ্য বেশ কয়েকবার তাদের শক্তির প্রদর্শন করেছে । কিন্তু সরকার ও আওয়ামীলীগের দুরদর্শিতায় তা নস্যাৎ হয়ে গেছে ।

দেশের বাম শক্তিগুলো সরকার ও আওয়ামীলীগের গা ঘেঁষা । তারা মুখে সরকার ও আওয়ামীলগীগের বিরুদ্ধে কথা বললেও আদতে এই মূহুর্তে বামদের আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন উপায় নাই । ভোটের রাজনীতিতে এই দেশের বামদের অবস্থা জামানত ফেরত পাওয়া যায় না টাইপ ব্যাপার ! আর দেশের সকল উগ্রধর্মান্ধ শক্তিগুলো সরকার ও আওয়ামীলীগ বিরোধী ।

দেশে মূলত রাজনৈতিক দল গুলো দুই ভাগে বিভক্ত । যারা মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাস করে ধারণ করে সেই মোতাবেক বাঙলাদেশ গড়তে চায় তারা সরকার ও আওয়ামীলীগপন্থী । আদর্শের জায়গায় ভিন্নতা থাকলেও চেতনার জায়গায় তারা এক ।

আর যারা মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপক্ষে , যারা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চায় পাকিস্তান আফগানিস্থান এবং সৌদি আরবের মতো তারা এক ।

মোদ্দাকথা মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরেপক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা বনাম মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধর্মীয় চেতনা ।
শুধুমাত্র ধর্মীয় চেতনা দিয়ে কোন রাষ্ট্র চলতে পারেনা । তার প্রকৃত উদাহারণ পাকিস্তান । ধর্মীয় চেতনা নিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আলাদা হলেও মাত্র ২৩ বছরের মাথায় দেশটি ভেঙ্গে ১৯৭১ সালে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় । এক ভাগের নাম হয় বাঙলাদেশ ।

এখন যদি বাঙলাদেশকে আবার ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র বানানোর পায়তারা করা হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের দুই লাখ মা বোনের ইজ্জত ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা প্রমাণিত হবে । এই জন্যেই আমরা বলি, আমাদের ধমনীতে শহিদের রক্ত । এই রক্ত কোনদিনও বেঈমানি করে না । কিসের সাথে বেঈমানি করে না ? ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে বেঈমানি করে না ।

সরকার ও আওয়ামীলীগ টানা ক্ষমতায় থাইকা এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিরোধী শক্তিদের কিছুটা দমাইয়া রাখছে ঠিকই কিন্তু তারা ব্যবসায়ীদের দমাইয়া রাখতে পারে নাই । ধর্মীয় উগ্রবাদী মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিরোধী শক্তি কিছুটা সরকার ও আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রনের ভিতর থাকলেও ব্যবসায়ীরা সরকারের একেবারেই নিয়ন্ত্রনের বাইরে ।

বাজার সরকার ও আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রনের বাইরে । বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটা জিনিসের দাম শুনলে শরীরে জ্বর চলে আসে । তখন মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনাতো দূরে থাক সরকার ও আওয়ামীলীগের নাম শুনলেই গালাগালি করে । গতকাল বেগুনের দাম জিজ্ঞাস করেছিলাম , কইলো একশো বিশ টাকা । কোন সবজিই পঞ্চাশ টাকার নিচে নাই । এই যদি বাজারের অবস্থা হয় তাইলে মানুষ খাবে কি ? চলবে কিভাবে ?
চেতনা তো আর খাওয়া যায় না । মানূষ যা ইনকাম করে তা দিয়া আরামচে তিন বেলা খাইতে না পারলে সরকার ও আওয়ামীলীগরে নিশ্চয় চুমা দিবে গালি না দিয়া ? আর সরকার ও আওয়ামীলগরে গালি দিলে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা কায়েম করবে কোন দল ?

সামনে নির্বাচন । সরকার ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ধর্মকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে একাত্তরের পুরনো ঘাতক দালাল জামাত , হেফাজত তার সাথে যোগ দিছে বিএনপি । তার উপর যদি দেশের সাধারন মানূষ ক্ষ্যাপে যায় তাইলে সরকার ও আওয়ামীলীগের অবস্থা আগামী নির্বাচনে ভালো হবে না । আওয়ামীলীগ হারবে এটি নিশ্চিন্তে বলা যায় ।

আমরাতো জানিই, আওয়ামীলীগ হারলে হারে মুক্তিযুদ্ধের ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা , জাতির পিতার আদর্শ তথা গোটা বাঙলাদেশ । আর আওয়ামীলীগ জিতলে শুধুমাত্র জিতে আওয়ামীলীগ ।

আমরা চাই , আওয়ামীলীগ জিতলে জিতুক গোটা বাঙলাদেশ জিতুক গোটা বাঙলাদেশের মানুষ ।
জয় বাঙলা ।

।।জেলখানার জিন্দেগী।।

ছেলেটার নাম মোহাম্মদ আলী হোসেন । বাড়ি টেকনাফ কলেজ রোড । কর্ণফুলী চার নাম্বার ওয়ার্ডের ইনচার্জ । ইনচার্জ মানে হইলো, মেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড । ওয়ার্ডের সবাই থাকে আলী ভাই কখনো কখনো আলী মেট বইলা ডাকে । বয়স আনুমানিক আটাশ ত্রিশ হবে । উচ্চতা পাঁচ ফুট তিন চার মতন । ওজন ৫০ থেকে ৫৫ কেজির উপরে হবে না ।

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে । আসরের নামাজের পর ফজায়েল আমল , মোকসুদুল মোমিনিন এবং আরো অন্যান্য ধর্মীয় বই পুস্তক পড়ে । মাগরিবের নামাজের পর ওয়ার্ডের অতি ধার্মিকদের লইয়া ফজায়েল আমল অথবা মোকসুদুল মোমিনিনের লেখাগুলা পড়ে পড়ে শুনায় এবং তার বিশদ ব্যাখ্যা বুঝাইয়া দেয় । তারপর খুব লম্বা একটা মোনাজাত ধরে । মোনাজাতের সময় দশ মিনিটের কম হয় না । মোনাজাত করার সময় সে চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কাঁদে তবে তার চোখে আমি পানি দেখি নাই । তার কান্না মিশ্রিত মোনাজাত অন্যদের চোখে ঠিকই পানি আইনা দেয় ।
জেলখানায় নাশকতা মামলায় যতো জামাত শিবির , বিএনপি এবং হেফাজতিদের নেতা কর্মী আছে তাদের সকলের সাথেই তার খুবই ভালো সম্পর্ক । তার সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, আওয়ামীলীগ ইসলামের শত্রু বলে আজ জামাত শিবির এবং হেফাজতিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় পাঠাইছে । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়া জেলখানায় তার কাজ হইলো , কোন কোন ওয়ার্ডে জামাত শিবির এবং হেফাজতিদের নেতা কর্মী আছে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া এবং তাদেরকে জেলখানার ভিতর কোন সাহায্য সহযোগিতা করা যায় কি না তার তদবির করা ।

আলী হোসেন মনে করে , আওয়ামীলীগ রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলে আসলে দেশের আলেম সমাজের মাথা কেটে দিচ্ছে । দেশকে আলেম শূন্য করে দিচ্ছে । ইসলামকে ধবংস করার জন্য যুগে যুগে নমরুদ ফেরাউনদের জন্ম হয়েছিলো আর এই বাঙলাদেশে আওয়ামীলীগই হইলো নমরুদ ফেরাউনের উত্তরসূরি । যারা আওয়ামীলীগ করবে হাশরের ময়দানে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে ।

আমি একদিন তাকে ডেকে জিজ্ঞাস করলাম , আলী ভাই আপনার মামলা কি ? সে বললো , সে ট্রাকের হেল্পারি করতো । ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়া লেখা করেছে । অভাব অনটনে বেশিদূর পড়তে পারে নাই । সে ট্রাকের জোগানে ইয়াবা লইয়া টাকায় পৌছাইয়া দিতো । প্রতি পিসে এক টাকা তার । একদিন টেকনাফ থেকে কাঠ বোঝাই কইরা ট্রাক নিয়া ঢাকায় যাচ্ছিলো । আর ট্রাকের জোগানে ছিলো এক লাখ পিস ইয়াবা । সোর্সের মারফত পুলিশ খবর পাইয়া পটিয়া থানা পুলিশ ট্রাক আটকায় । এবং এক লাখ পিস ইয়াবা ট্রাকের জোগানে পায় । আর পটিয়া থানা পুলিশ তাকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দেয় । আর সেই মামলায় তার পনেরো বছর সাজা হয়েছে ।

আমি এই কথা শুনে তারে জিগাইলাম, আলী ভাই আপনি কি জানেন হারামখোরের শরীর জান্নাতে প্রবেশ করিবে না ? আলী ভাই কয় , জানি । তাইলে আপনি হারাম ব্যবসা করতেছিলেন কেনো ? ভাই আল্লাহর কাছে মাফ চাইতেছি আল্লাহ মাফ কইরা দিবে । বুঝলাম আল্লাহ মাফ কইরা দিবে । এই যে আপনি লোকজনরে বইলা বেড়াইতাছেন আওয়ামীলীগ করলে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে তা কি ঠিক হইতাছে । সে কয় , অবশ্যই ঠিক হচ্ছে । আওয়ামীলীগ ইসলামের শত্রু আওয়ামীলীগ করলে জাহান্নাম নিশ্চিত ।

আমি আর তার লগে কথা বাড়াইলাম না । আমি একটা ধারনা পাইলাম , মোহাম্মদ আলী হোসেন নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে । তার কাছে ধর্ম বড় নয় তার কাছে ব্যবসা বড় । তাই সে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ধইরা নিজের অপরাধ আড়াল করছে । আর এতে মানুষ বুঝতেই পারছে না , আলীর মতো পাঁচ ওয়াক্ত একজন নামাজি যে ধর্ম ছাড়া চলেই না সে কিভাবে অপরাধ করতে পারে !
আমি এইটা নিশ্চিত , যারা নিজের অপরাধ ঢাকতে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তারা ধার্মিক নয় তারা ভন্ড । মোহাম্মদ আলী হোসেনও ভন্ড ।

মোহাম্মদ আলী হোসেনদের মতো লোক এখন এই বাঙলাদেশে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ।

শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

।। জেলখানার জিন্দেগী ।।

জেলখানায় বিভিন্ন দলের ওয়ার্ড আছে । জামাত শিবিরের ওয়ার্ড , বিএনপির ওয়ার্ড এবং আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড । দলের মতাদর্শের লোকরাই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে থাকতে পারে । দলীয় ওয়ার্ডে থাকলে সুযোগ সুবিধা একটু বেশি ভোগ করা যায় ।
প্রত্যেকদিন সকাল বেলা "আমদামী"তে (যেখানে নতুন আসামীদের এনে রাখা হয়) জামাত ওয়ার্ডের মেট (যে ওয়ার্ডের পরিচালক) চিল্লায়ইয়া বলে , জামাত শিবিরের কোন ভাই আছো ? থাকলে হাত তুলো । যারা হাত তুলে তাদের সাথে প্রাথমিক আলাপ ( কি মামলা , কোন থানা এইসব) সেরে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ।
বিএনপি আর আওয়ামীলীগের মধ্যে এইসব নাই । একমাত্র সুপারিশ ছাড়া বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের ওয়ার্ডে কেউ থাকতে পারে না । নেতারা বাইর থেকে সুপারিশ করলেই কেবল জায়গা হবে নইলে হবে না ।
পলিটিক্যাল ওয়ার্ডে সাধারন ওয়ার্ড থেকে খরচ একটু বেশি । কারণ এইখানে থাকা খাওয়া উন্নত মানের । জামাত ওয়ার্ডে যে যা পারে তা দেয় নির্দিষ্ট হিসাব নাই কারণ সংগঠন থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমান একটা অর্থ জেলখানায় তাদের নেতা কর্মীদের থাকা খাওয়া এবং মামলা পরিচালনা বাবদ পাঠানো হয় ।
বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের ওয়ার্ডে মাসিক খরচ সাড়ে চার হাজার টাকা । এই টাকার এক টাকাও ওয়ার্ডের মেট খায় না সবই আসামীদের জন্য খরচ করে । তবে জামাত ওয়ার্ডের মেট খরচের কোন হিসাব কাউকে দেন না বরঞ্চ উনি জেলখানার ইনকাম দিয়া বাড়িতে টাকা পাঠান ।
জেলখানায় পলিটিক্যাল ওয়ার্ড গুলো থেকে দলীয় প্রোগ্রামগুলো পালন করা হয় । জামাতিরা জামাতিদের গুলা বিএনপি বিএনপির গুলা আর আওয়ামীলীগ আওয়ামীলীগের গুলা । জামাতিরা রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যু দিবসে । সেইদিন জেলখানার সকল জামাতি আকিদার লোকদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয় । তারা আসে মিলাদ পড়ে তারপর খাইয়া দাইয়া চইলা যায় । বিএনপি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন মৃত্যু দিন আর খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করে । আওয়ামীলীগ ওয়ার্ড থেকে আওয়ামীলীগের সকল দলীয় কর্মসুচি পালন করা হয় ।
আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড পরিচালনার জন্য দল থেকে একটা টাকাও দেওয়া হয় না । যারা থাকে তারাই ভাগাভাগি কইরা খরচ দিয়া পলিটিক্যাল প্রোগ্রামগুলা করে ।
বিএনপির ওয়ার্ডটির খরচ এখন আসলাম চৌধুরী দেয় । কিন্তু আওয়ামীলীগের বেলায় কেউ দেয় না । তারপরেও আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড থেকে দলীয় প্রোগ্রাম গুলা পালন করা হয় ।
আমি জেলে থাকাকালীন সময়ে দেখেছি, আগষ্ট মাসকে শোকের মাস হিসাবে পালন করতে । ওয়ার্ডের সামনে এক তারিখ থেকে একত্রিশ তারিখ পর্যন্ত কালো পতাকা বাঁধা ছিলো । ১৫ আগষ্ট শোক দিবস পালন করা হয়েছিলো । জেলখানায় আমরা যারা আদর্শিক আওয়ামীলীগ ছিলাম তারা ১৫ আগষ্টের গোটা দিন কালো ব্যাজ পড়েছিলাম । আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড থেকে দুই জায়গায় কোরান খতম দেওয়া হয়েছিলো । একটি ছিলো "কোরান দফায়" আরেকটা দেওয়া হয়েছিলো , ওয়ার্ডে । তারপর ওয়ার্ড থেকে প্রায় দেড়শোজন লোক'কে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়েছিলো । এই দেড়শোজন লোকের মধ্যে ছিলো দলীয় নেতা কর্মী সমর্থক , মৌলানা , বৃদ্ধ অসহায় আসামী এবং যারা কোরান খতম দিয়েছিলো, জেলখানার প্রশাসনিক লোক ।
জেলখানা এখন আসলে অনেক মানবিক । যদিওবা এটি জেলখানা । আসামীদের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় আবেগ অনুভুতি চর্চা করার সীমিত সুযোগ দেওয়া হয় ।
তবে একটা দুঃখের বিষয় , আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও জেলখানার প্রশাসন , জমাদার সুবেদার মিয়াসাব , মেডিকেল ওয়ার্ডের পরিচালক , ক্যান্টিনের পরিচালক , কেইস টেবিলের সুবেদার , লাইব্রেরির পরিচালক এরা সকলেই জামাত বিএনপির অনুসারী ।
আর তাই জামাত বিএনপির আসামীরা জেলখানায় অন্যান্য দলীয় আসামীদের চাইতে বেশি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে ।
ক্যান্টিনে যেকোন জিনিষের দাম বাইরের দামের তুলনায় প্রায় আড়াইগুন বেশি । যার ফলে সাধারণ আসামিদের মধ্যে সরকার বিরোধী একটা মনোভাব তৈরি হয় । অথচ এই ক্যান্টিনটি আওয়ামীলীগের অনুসারী কেউ পরিচালনা করলে এই রকম রক্ত চুইষা খাইতে পারতো না আসামীদের । কারণ এর জন্য দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ।
মেডিকেল ওয়ার্ডে চলছে আরেক নৈরাজ্য । সাধারণ রোগীরা থাকতে পারছে না । যারা থাকছে তারা বেশির ভাগই রোগী নয় । মেডিকেল ওয়ার্ডটি যে চালায় সে পটিয়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি । এখন সে মাসিক বারো হাজার টাকা করে নিয়ে পয়সাওয়ালা আসামীদের আরামে থাকার ব্যবস্থা করছে । যার ফলে সাধারণ রোগীদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে । যার প্রভাব পড়ছে আওয়ামীলীগের উপর ।
আওয়ামীলীগের উর্ধতন নেতারা যদি বাইর থেকে জেলখানার ভেতরে নজর না দেয় তাইলে জেলখানার প্রশাসনিক তেমন একটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না । আর জেলখানার প্রশাসন যদি আওয়ামী অনুসারীদের হাতে না আসে এই আওয়ামীলীগ আমলেও তাইলে আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা কর্মীরা যারা দল ক্ষমতায় থাকার পরেও জেল জুলুমের স্বীকার হয় তারা জেলের ভেতরেও নির্যাতিত হইবে ।
বিষয়টা নিয়া আওয়ামীলীগের ভাবা উচিত ।