শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

নারী শরীরে মিষ্টি ঘ্রান খোঁজার চাইতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে যারা আছে তাদের একটু জ্ঞান দেওয়া অনেক শ্রেয়... / জিপসি রুদ্র

বাপ্পি খুব নারী পাগল ছেলে । নারী শরীর ঘেঁসতে তার খুব ভালো লাগে । বলতে গেলে বলতে হয়, নারীই তার একমাত্র প্রিয় । নারী শরীর নিয়ে তার অভিজ্ঞতা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, সে যেকোন নারীর চুলের ঘ্রান শুঁকে বলে দিতে পারে চুলে কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়েছে আর গায়ে কোন সাবান । কিন্তু ইদানিং তার আর নারী ভালো লাগে না ।নারী থাকে আর আগের মতো কাছে টানে না । নারী থাকে আর আগের মতো ভাবায় না ।
বাপ্পিকে এখন অন্য কিছু ভাবায় । আজ সকলে বাজারে গিয়ে তার কাছে মনে হলো এই রমাজানে আল্লাহর রহমত সবচেয়ে বেশি পড়েছে কাঁচা বাজারের উপর । সব কিছুর দাম প্রায় ডাবল । বেগুনের উপর আল্লাহর রহমত পড়েছে একটু বেশি। তাই মনে হয় বেগুন বিক্রি হচ্ছে আশি টাকায় । তাই বাপ্পির ভাবনার বিষয়টি এখন কৃষি পন্য । হঠাৎ করে কৃষি পন্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কোন কারন বাপ্পি খুঁজে পাচ্ছে না ।তার ধারণা কৃষি মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রী আর বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রীর মধ্যে কোন রকম যোগাযোগ নেই। এই দুই মন্ত্রীর ব্যর্থতার কারনে বাজারের এই অবস্থা । তাই তার ইচ্ছা করছে এই মুহূর্তে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আর বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রীকে ডেকে এনে কিছু জ্ঞান দিতে । ১. বাঙলাদেশের সকল মানুষকে হাতে কলমে বাধ্যতামূলক ছয় মাসের কৃষি ট্রেনিং কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ২. বাঙলাদেশের সকল ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ইন্টার মিডিয়েড পর্যন্ত এবং ছয় মাসের মাঠ পর্যায়ে বাধ্যতামূলক প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ এবং যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ অমান্য করবে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি আর হেড মাস্টার বা অধক্ষ্যকে ১ বছরের কারাদণ্ড  ৩. কৃষকের উৎপাদিত পন্য ভোক্তাদের হাতে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া নজরদারি ৪. সিন্ডিকেটের হদিস পাওয়া গেলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড আর ১০ লাখ টাকা নগদ জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ বছর জেল ৫. হাইব্রিড উৎপাদনের চাইতে দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ আর দেশীয় বীজ সংরক্ষনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন ।


বাপ্পি মনে করছে ইদানিং তার মাথাটা ঠিকঠাক কাজ করছে না । তাই সে আগের মতো মেয়ের পিচে না ছুটে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জ্ঞান দিয়ে বেকার সময় কাটাচ্ছে... আবার মনে হচ্ছে নারী শরীরে মিষ্টি ঘ্রান খোঁজার চাইতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে যারা আছে তাদের একটু জ্ঞান দেওয়া অনেক শ্রেয়...

শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪

বাপ্পি আর বাপ্পির ভাবনা... / জিপসি রুদ্র

বাপ্পি প্রতিদিন এর মতো আজও খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাতরাশ সারলো । তারপর ছাতাটা হাতে নিয়ে বের হলো অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে । বিল্ডিং থেকে নেমে প্রতিদিনের মতোই গেইটের তালা খুললো । এতো সকালে এই বিল্ডিঙয়ের কেউই ঘুম থেকে উঠে না । তাই তাকেই গেইট খুলে বাইরে যেতে হয় । এই জন্যই সে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালা থেকে গেইটের একটা চাবি নিয়ে রেখেছে ।
বাসা থেকে রাস্তায় আসতেই প্যাঁচ প্যাঁচ করে বৃষ্টি পরা শুরু করলো । হাল্কা একটু বাতাসও গায়ে লাগছে । তার খুব ভালো লাগছে । এই পরিবেশটা বাপ্পি’র খুবই রোমান্টিক লাগে । এই রকম সময়ে সে সবসময় তার বিশুদ্ধ প্রেমিকার চুমু আশা করে । বাসা থেকে বড় রাস্তার দূরত্ব পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ । ওখানেই তার অফিসের গাড়ি অপেক্ষা করে । তাই তাকে প্রত্যেকদিন বাসা থেকে সকালে  পাঁচ মিনিট হেঁটে যেতে হয় ।
আজ বড় রাস্তায় গিয়েই বাপ্পির মেজাজ গরম হয়ে গেলো । পানি আর পানি । অফিসগামী সবাই ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে । একটা গাড়িও রাস্তায় নেই । দু একজন রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরছে । সে ভাবছে এটা কি শহরের রাস্তা নাকি কোন নদী ?
কোন রকম নিজের মেজাজ’কে ঠাণ্ডা করে গাড়িতে উঠলো । হালিশহর আসার পর বুঝতে পারলো সামনে আর যাওয়া যাবে না । পানি আর পানি । গাড়ি নিয়ে এই পথে আর যাওয়া যাবে না । লাগবে নৌকা ।  
বাপ্পির মেজাজ এবার চরম খারপ । অফিসে যাওয়ার মন-মানসিকতা এখন আর নাই তার । তার ইচ্ছা করছে চট্টগ্রামের মেয়র মঞ্জু আর সিডিএ’র চেয়ারম্যান ছালাম’কে ডেকে এনে কানের পট্টির নিচে টাস টাস করে থাপড়াইতে ।  থাপড়ানো শেষ হইলে সে তাদেরকে কয়েকটা প্রশ্ন করবে । আর কয়েকটা উপদেশ দিবে । সে মনে মনে প্রশ্নও রেডি করে ফেলেছে । প্রশ্ন ১. এটা কি শহর নাকি নদী ? প্রশ্ন ২. এটা কি রাস্তা নাকি নদী? যদি এটি শহর হয় তাহলে এইখানে কোমর পানি ক্যান? যদি এটি রাস্তা হয় তাহলে মানুষ এইখানে জাল দিয়ে মাছ ধরে ক্যান? তোরা দুইজন এইগুলো দেখস কি দেখস না? দেখলে তোরা এখনো ঘরে বইয়া আছস ক্যান? ঘরে বইয়া থাকনের জন্য কি তগোরে নগর পিতা আর চেয়ারম্যান বানাইছি ?

এই পর্যায়ে এসে সে তার বকাবকি থামাবে এবং কিছু উপদেশ দিবে । উপদেশঃ তোরা দুইজন যদি বর্ষার আগে একটা প্লেন কইরা নগরের সমস্থ ড্রেন গুলা পরিষ্কার করে দিতি তাহলে আজকে এতগুলো মানুষের চুদন খাইতে হইতো না । যে এলাকায় ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে সেই এলাকায় যদি নয়া ড্রেন খনন করে দিতি তাহলে পানি নিষ্কাশন খুব সহজেই হয়ে যেতো । তখন চুদনের বদলে মানুষ তগোরে পুজা দিতো । এখন যে হারে আজকে তোদের দুজনের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছে আমার তো ধারণা এই ভাবে চলতে থাকলে শহরে জনসংখ্যা বাড়তে বেশিদিন সময় লাগবে না ! 

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

যানজট নিরসনে বাপ্পি'র পরিকল্পনা.../ জিপসি রুদ্র

বাপ্পি ছেলেটা বিষণ এলোমেলো । নাগরিক জীবনে ছুটে চলা এক ক্লান্তিহীন পথিক । তার দাবী, সে পৃথিবীর সর্বশেষ ভবঘুরে । তার মৃত্যুর পর আর কোন ভবঘুরে'র জন্ম হবে না এই পৃথিবীতে। সে নিজেকে বাঙলাদেশের নাগরিক মনে করে না, মনে করে সে পৃথিবীর নাগরিক। বাঙলাদেশের সেটেলার । সে চায় ভিসা মুক্ত হোক পৃথিবী ।
বাপ্পি রাস্তায় বের হলেই তার মাথা গরম হয়ে যায় । তার ধারনা মাথা শুধু গরম না মাথা আগুন হয়ে যায় ।
রাস্তায় এতো জ্যাম ক্যান ? রাস্তায় জ্যাম থাকবে ক্যান? প্রশ্ন করে নিজেকে সে ।
তার মনের মধ্যে উত্তর আসে , অব্যবস্থাপনা আর সরকার বাহাদুর এর স্বদিচ্ছার অভাবে ।
রাস্তায় ফ্যাপ ফু গাড়ির আওয়াজ তার মাথা আরও গরম করে দিচ্ছে । সে জানে এই অবস্থায় একটা সিগারেট ধরালে তার মাথা একটু ঠাণ্ডা হবে । সিগারেট এর দোকানে গিয়ে মনে হল শালার সরকার যেখানে মনোযোগ দেওয়া দরকার সেখানে মনোযোগ দিচ্ছে না । পড়ে আছে সিগারেট এর দাম নিয়ে !
সিগারেট টানতে টানতে সে সামনে হাঁটছে গাড়ির ভিড়ের মধ্য দিয়ে । তার ইচ্ছা করছে যোগাযোগ মন্ত্রনালয় আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীকে ডেকে এনে দুটা পরামর্শ দিতে । বলতে ইচ্ছা করছে, আয় তোরা দুজন আমার সাথে জ্যাম টেলে গন্তব্যে যায়।
রাষ্ট্রের মানুষ খেতে পায় না আর রাষ্ট্র বেহুদা কামে টাকা ব্যয় করছে দেদারছে ! যানজট নিরসনের জন্য ফ্লাই ওভার নির্মাণ তার কাছে হাস্যকর আর রাষ্ট্রের টাকা অপচয় বলে মনে হয় । যোগাযোগ মন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার মনে হচ্ছে জ্ঞান দেওয়া দরকার ! তার ধারনা বাঙলাদেশের যানজট নিরসনে মাত্র তিন দিনই যথেষ্ট ।দরকার নেই কোন ফ্লাই ওভার নির্মাণের । সে হাটতে হাটতে একটা পরিকল্পনা তৈরি করে যোগাযোগ মন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য । এক । ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাঙলাদেশের সকল ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এই নির্দেশ অমান্য হলে ওই নির্দিষ্ট থানার ওসি বিদায় । দুই। রাস্তার উপর যেকোন ধরনের ব্যাবসা বানিজ্য গাড়ি পারকিং সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ । তিন । ট্রাফিক পুলিশ হবে আরও কর্মঠ । রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা নেওয়া চলবে না নিলে ওই ট্রাফিক পুলিশ নগদে বিদায় এবং কোন গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল না মানলে ওই গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স নগদে বাতিল । এবং জরিমানা ।
পরক্ষনে মনে হয় , টেনশন তার একার ক্যান ? দেশে কি আর কোন মানুষ নাই ? থাকলে তারা ভাবে না ক্যান ? তার গালি দিতে ইচ্চা করে । কিন্তু বুঝতে পারছে না গালিটা কারে দিবে । সাধারন মানুষকে নাকি যোগাযোগ মন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে ?

সোমবার, ১৬ জুন, ২০১৪

আমার এই স্বপ্নটাও পূর্ণতা পেলোনা !

মদ খেয়ে সদ্য শুয়েছি ! এর মধ্যেই কলিং বেল টা বেজে উঠলো ! খুব বিরক্তি নিয়ে বিছনা থেকে উঠে দরজা খুলে আমিতো পুরাই অবাক ! আরে এ তো সেই মেয়েটি ! যে মেয়েটি'কে আমার অসম্ভব ভালো লাগে ! ভীষণ ভালো লাগে ! এতো ভালো লাগে যে, সে আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে আমার ভেতর কেমন জানি একটা ভালো লাগা তৈরি হয় ! আমি যেন কেমন হয়ে যায় ! পুলকিত হই শিহরিত হই ! ভেতরে কেমন জানি একটা আড়ষ্টতা তৈরি হয় ! আমি বুঝতে পারি মেয়েটিকে কত্তো ভালোবাসি ! কিন্তু এতো রাতে এই মেয়েটি আমার দরজায় ? 
কি মিস্টার ! অবাক হলেন ?
আমার কোন উত্তর নেই ! ইশারায় বললাম ভেতরে আসো ! 
আজকে তো বিশুধবার , তোমার মদ্যদিবস ! তোমাকে দেখেই তো বুঝা যাচ্ছে গিলেছো অনেক !
তা খেয়েছি একটু...
সে যাই হোক , লোকমুখে শুনছি তুমি নাকি আমাকে ভালোবাসো ? আমাকে দেখলে নাকি তোমার ভেতরে কেমন জানি একটা আড়ষ্টতা তৈরি হয় ? তুমি নাকি পুলকিত হও, শিহরিত হও? আমি নাকি তোমার প্রিয় আবৃত্তি শিল্পী ? 
তুমি কি তার সত্যতা  জানতে এসেছো ? 
যদি বলি , হু
তাহলে আমি বলতে পারি , যা শুনেছো মিথ্যে শুনো নি !
তুমি কি জানো তুমি ছেলেটা কি রকম ? তোমার নামে কতো বাজে বাজে কথা এ পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত ? 
আমি আমার সম্পর্কে তোমাদের সকল অপবাদ বা আরো অনেক মুখরোচক কথা গায়ে মেখে নিয়ে তোমাকে একটা কথা বলতে পারি, আমি কিন্তু ভালোবাসোতে জানি...
মেয়েটি তার চোখের চশমা’টা আঙ্গুল দিয়ে টেলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আমি ফ্যানের বাতাসে তার চুল উড়া দেখছি ! 
বললাম, আমি কি তোমার হাতটা ধরতে পারি ! আর একটা চুমু...
মেয়েটি হেঁসে বলল, পাগল একটা...! 
আমি মেয়েটির হাতটি ধরার জন্য আমার হাতটা বাড়িয়েছি ! ঠিক এই সময় কে যেন আমার গাঁড়ে কামড় বসিয়েছে । চোখ খুলে দেখি গলায় একটা লাল পিঁপড়া কামড়াচ্ছে ! 
তাকে নিয়ে আমার এই স্বপ্নটাও পূর্ণতা পেলোনা ! আসলে অপূর্ণতায় কি ভালোবাসা ? সে যাই হোক, বেঁচে থাকুক আমার ভালোবাসা ! ভালো থাকুক তার জন্য... 

জিপসি রুদ্র
২৩/০৫/২০১৪

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

ম্যাডাম খালেদা সমীপে... / জিপসি রুদ্র

ম্যাডাম এতো ঘারত্যারামি করতেছেন ক্যান? আপানার কি মনে হয় ঘারত্যারামি কইরা আপনি শেখের বেটির নির্বাচন ঠেকাইতে পারবেন? সেই শক্তি কি আসলেই আপনার দলের আছে? এতগুলো হরতাল আর এতগুলো অবরোধ দিলেন কতজন নেতা সেই হরতাল অবরোধ সফল করতে রাস্তায় নেমেছে? যারা নেমেছে তারা কি আপনার দলের কর্মী নাকি ভাড়াটিয়া? আর যে সমস্থ মানুষগুলো পুইড়া মরলো তারা আসলে সমাজের কোন শ্রেণির মানুষ সেই হিসাব কি আপনি নিয়াছেন?
ম্যাডাম আপনি যদি শেখের বেটির নির্বাচনে না যান তাহলে মনে করবেন আপনি নিজের হাঁতে নিজেই আপনার জামাইর দল বিএনপি'কে কবর দিবেন। আপনার দলের নেতা'রা দল থেকে নির্বাচন না করলেও ঠিকই ডিগবাজি দিয়া এককভাবে শেখের বেটির নির্বাচনে অংশ নিবেই। এ কথাতো আপনার না বুঝার কথা না! আপনার দলে বিশ্বাসযোগ্য নেতা আসলেই আছে কি ? থাকলে তা কতজন? এই হিসাবটাও কি আপনার নেই!
ম্যাডাম বিএনপি'কে যদি বাঁচাতে চান বাঙলাদেশের রাজনীতিতে তাহলে আউল ফাউল টক না কইরা শেখের বেটির নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে অংশ নিলে আপনাদের হাঁতে একটা বিরাট সুযোগ সেটা হচ্ছে এদেশের জনগন এক সরকার দুইবার খায় না। অতীত ইতিহাস তাই বলে। আর জামাত ইসলাম এর নির্বাচন এ তো হাইকোর্টের কাঁচা বাঁশ ঝুইলা আছে। জামাত নির্বাচন করতে না পারলে এই রাজাকারদের ভোট তো আপনিই পাইবেন। রাজাকার’রা শেখের বেটিরে ব্যাপক ডরাই। তাই তারা ভুলেও ওই পথে হাঁটবেনা।
ম্যাডাম বাঙলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের মানুষ এখনো ব্যাপক ধর্মভীরু । নির্বাচনে অংশ নিয়া আপনি তাদের ভেতরে অতীতে যেভাবে শেখের বেটি হিন্দু বলিয়া চালাইয়া দিয়াছিলেন এইবারও সেই একই কাজ করিতে পারেন। এইবার তাহারা একটু বেশি কইরা খাইবো এই অপপ্রচার। কারণ হইলো সাইদি। সাইদি গ্রাম অঞ্চলের মানুষের কাছে আল্লাহর সাক্ষাত অলি। আর এই রাজাকার অলি’রে শেখের বেটি চৌদ্দ শিখের ঘরে আটকাইয়া রাখিয়াছে মাইরা ফেলানোর লাইগা। এই বিষয়টারে ভালোমত নুন মরিচ মাখাইয়া গ্রাম অঞ্চলের মানুষরে খাওয়াইলেই ম্যাডাম  বিজয় আপনার ঠ্যাকাই কে? অতীতেও’তো এই একই কাজ কইরা ক্ষমতায় আসার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছিল । ম্যাডাম নির্বাচনে অংশ নিয়া অতীত অভিজ্ঞতারে কাজে লাগান। এই কাজ আপনার দলের নেতা কর্মীর করার দরকার কি আপনি নির্বাচনে অংশ নিলেই জামাত শিবির এর দ্বীনী ভাইয়েরা এই কাজ সাইরা ফেলবো।
ম্যাডাম হুদাই আপনি ভয় পাইতাছেন। শেখের বেটি নির্বাচনে কারচুপি করবো । কারচুপি কইরা শেখের বেটি ক্ষমতায় থাইকা যাইবো। ম্যাডাম এখন নির্বাচন একবার হইয়া গেলে সেই নির্বাচনে এইদিক সেইদিক করার সুযোগ খুব একটা থাকেনা। অতীত নির্বাচন গুলো দেখেন। তাইলেইতো প্রমান পাইয়া যাইবেন।  এইখানে আপনার বিশ্বাস আনার জন্য আমি একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে পারি । চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচনে মুহিউদ্দিনকে বিজয় করতে তার সমর্থকেরা সর্বশেষ চেষ্টা করেও মুহিউদ্দিন’কে  জয়ী করতে পারেনি। এখন আর সেই দিন নাই জয়ী হয়েছে একজন ঘোষণা আসবে অন্যজনের। তাই বলছি জনগনের উপর পূর্ণ আস্থা আর অতীত ইতিহাসের কথা ভেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এতে আপনার দলের লাভ বৈ ক্ষতি হবে না।
ম্যাডাম শেখের বেটির নির্বাচন প্রতিহত করার শক্তি আপনার দলের যেহেতু নাই তাই অন্য কিছু না ভাবিয়া নির্বাচন এর দিকে আপানার দলকে মনোনিবেশ করান। শেখের বেটির সাথে হোক বা মহাসচিব পর্যায়ে হোক একটা আলোচনা করিয়া আপনার দলের নেতা কর্মীদেরকে জেল থেকে বের করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। আপনারা শর্ত ছাড়া নির্বাচনে যাবেন বললে শেখের বেটি সবাইরে ছাইড়া দিবো বলে আমার ধারণা।
ম্যাডাম একটা কথা মাথায় রাখবেন সমঝতা আপনার দরকার শেখের বেটির না। তাই বলছি আপনি যদি সমঝতা না কইরা ঘারত্যারামি করেন তাহলে মনে করবেন বাঙলাদেশের রাজনীতিতে আপনার জামাইয়ের দল বিএনপি এপিটাফ ।
৩০/১১/২০১৩
খসড়া
২৭ কে.বি প্লাজা

চকবাজার, চট্টগ্রাম   

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩

স্বীকারোক্তি / জিপসি রুদ্র

বিবর্ণ,
কেমন আছ জিজ্ঞেস করবনা। আমি জানি তুমি আমাকে ছাড়া অনেক কষ্টে আছ। কতটুকু কষ্টে আছ তার পরিমাপ আমার পে সম্ভব নয়। বিবর্ণ আমার কিছু করার ছিলনা। আমার প্রতি তোমার ভালবাসা এত গভীর হয়ে উঠেছিল যে আমারও তোমার কাছ থেকে চলে আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু তোমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাকে চলে আসতে হয়েছে।
বিবর্ণ তুমি বারবার জানতে চেয়েছ তোমার অপরাধ কি? আসলে তোমার কোন অপরাধ নেই। ভূল যা করেছি আমিই করেছি। আমিও জানতামনা যে আমার একাকিত্ব ঘোচাতে গিয়ে আমাকে এত বড় ভূল করতে হবে।
    এখন আমি যে কথাগুলো লিখব তা পড়ে তুমি স্থির থাকতে পারবেনা। তারপরও কথাগুলো তোমার জানা দরকার।
    বিবর্ণ আমি একজন বিবাহিত মহিলা। চার বছর তোমার সাথে সম্পর্কের মধ্যে আমি তা বুঝতে দেয়নি। অনেক সময় তুমি প্রশ্ন করলে আমি কৌশলে এড়িযে গেছি। বিয়ের একবছর আমার স্বামীর সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভালই কেটেছিল। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি তার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল এবং তারা দুজনে ভালবেসেই বিয়ে করেছিল। আমার স্বামীর বাবা মা আমার স্বামীকে চাপ দিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করে। সম্পূর্ণ বিষয়টি গোপন রেখে দুই পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়। একবছর পর বিষয়টি যখন আমি জেনে যাই শুরু হয় অশান্তি। আমি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। এক পর্যায়ে তালাকের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু আমার বাবা মা ও ভাই বোনদের কথা ভেবে আমি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। আমার স্বামী আমাকে কিছু না জানিয়ে চার পাঁচ দিনের জন্য ঢাকার বাইবে চলে যায়। সে ঢাকায় থাকলেও খুব রাত করে ঘরে ফিরে। তার এমন কোন কাজ নাই যে, সেই কাজ শেষ করতে এত সময় লাগে। আমি সারা  ঘরে একা। খুব অসহায় লাগত নিজেকে। আমার স্বামী আমার গায়ে হাত না তুললেও মানসিক যন্ত্রনা দিত প্রচুর। এত যন্ত্রনা সইতে না পেরে আমি আতœহত্যার সিদ্ধান্ত নিই। আবারও আমার ভাই ও বোনদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত থেকে ফেরত আসি। প্রচন্ড রকম মানসিক যন্ত্রনা এবং একাকিত্বের মাঝে তোমার সাথে আমার যোগাযোগ। তোমার বয়স আমার থেকে বছর চারেক কম হলেও তোমার ম্যান্টালিটি অনেক উচুঁতে। আমি আবার বাচাঁর সাহস পেলাম। আমি আমার সব কিছু গোপন করে তোমার সাথে সম্পর্ক তৈরী করলাম। তুমি আমাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে লাগলে আর আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে লাগলাম। এক পর্যায়ে আমি তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে গেলাম। তোমাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে গেলাম। আসতে বললাম তোমাকে ঢাকায়। তুমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলে। সকাল আটটা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত আমরা একসাথে কাটালাম। তুমি যখন আমার উপর হাত রাখলে আমি আমার আগের সব কষ্ট ভুলে গেলাম। বিবর্ণ, আমি আমার স্বামীর সাথে কখনও রিক্সায় ঘুরিনি। কখনো একসাথে বসে সিনেমা হলে সিনেমা দেখিনি। তোমার সঙ্গ, তোমার স্পর্স আমার প্রানে সাহস জোগায়।
    দিন যায় আমাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। তুমি ভালবাসার কথা জানালে আমি সাদরে সম্মতি জানাই। তুমি যতবারই ঢাকায় এসেছ ততবারই আমাকে আদর করতে চেয়েছ। কিন্তু কেন জানি আমার তোমাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করতনা। খুব কম সময় তুমি আমাকে আদর করতে পেরেছ। এমনও হয়েছে তুমি বিনা আদরে ঢাকা থেকে ফিরে গেছ। বিবর্ণ, বিশ্বাস কর তোমাকে ঠকাতে আমার ইচ্ছে করতনা। আমারও খুব কষ্ট হত বিনা আদরে তোমাকে ফেরত পাঠাতে। আমি জানি তুমি আদর করলে তোমার শরীরের উঞ্চতা বাড়বে। তুমি অনেক কষ্ট পাবে।
    এক পর্যায়ে তোমার আদর করার ইচ্ছে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বিবর্ণ, আমি বিশ্বাস করি কাউকে গভীরভাবে ভালবাসলে তাকে আদর করতে ইচ্ছে করে। কাছে আসতে ইচ্ছে করে। তুমি আমাকে ভালবাস বলেই আমার কাছে আসতে ইচ্ছে করছে। আমিও তোমার ইচ্ছেকে শ্রদ্ধা করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসি। আমার এই চট্টগ্রামে আসাটাই তোমার জীবনের অভিশাপ।
    তোমার রুমে ঢোকার পর আমি অভাক হয়ে যাই আমার পোট্রেট। বিবর্ণ তুমি আমাকে এত ভালবাস। বিবর্ণ সত্যি সেদিন আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। আমি অনেক কষ্টে সংযত করেছি নিজেকে। একটা ছেলে আমাকে ভালবেসে পোট্রেট করেছে এর চেয়ে বড় কোন ভালবাসা আমি আমার জীবনে পাবনা।
    সারাদিন আমরা চট্টগ্রাম ঘুরে বেড়ালাম। ফয়েজ লেক, পতেঙ্গা, ডিসি হিল, সি আর বি তোমার প্রিয় জায়গা গুলোতে নিয়ে গেলে। তোমার সে কি আনন্দ।
    রাতে যখন রুমে আসলাম তখন আমার ভিতরে অস্থিরতা শুরু হল। আমার মাথা ঘুরতে লাগল। এখনি তুমি আমাকে আদর করতে চাইবে। এখনি তোমার প্রিয় আমার পায়ে চুমু খেতে চাইবে। এখনি তুমি তোমার সমস্ত ভালবাসা আমাকে দিতে চাইবে। আমি কি করব ভেবে পাচ্ছিলামনা। আমি ভেতরে ভেতরে ঘামতে লাগলাম।
    তুমি যখন ফ্রেশ হয়ে আমার হাত  ধরে চুমু খেলে আমার সমস্ত শরীরে মনে হল বিদ্যুৎ খেলে গেছে। তুমি আমার ঠোটে ঠোট রাখার পর বুঝতে পারলাম তোমার বাহুডোর থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। তুমি আমাকে মাতালের মত আদর করছ। এক পর্যায়ে যখন তুমি আমার বুকে হাত দিলে আমি তোমাকে প্রচন্ড ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম। তুমি বেশ অবাক হয়ে আমার দিকে থাকিয়ে রইলে এবং আমি খুব স্ট্রংলি বললাম শুধু ঠোঁটে আদর ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেনা। যদি কিছু কর তবে সেটা ধর্ষন ছাড়া কিছু হবেনা।    
    মুুহুর্তের মধ্যে তোমার চেহারা অন্য রকম হয়ে গেল। তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। কারন আমি বিশ্বাস করি কেউ গভীর করে সত্যিকারের ভালবাসলে তার প্রভাব চুড়ান্ত ভাবে দেহে এসে পড়ে। তোমার বেলায়ও তা হচ্ছিল। কিন্তু সেটি যদি তখন হত সেটি হত তোমার জন্য চুড়ান্ত কষ্টের।
    সে রাত আমাদের দুজনের জন্য তীব্রতম কষ্টের রাত। প্রিয়জন পাশে থাকার পরও তাকে স্পর্শ করতে না পারার কষ্ট শুধু সেই জন বুঝে যে জন এরকম পরিস্থিতিতে পড়ে। আমি সে রাতে ভাবতে ছিলাম,তোমার পোট্রেট আর আমি দুজন ভিন্ন। পোট্রেট তোমার ভালবাসায় সিক্ত হয় আর আমি ইচ্ছা থাকার পরও সিক্ত হতে পারছিনা। কারন তোমার সাথে আমার সংসার করা সম্ভব নয়। আমার সংসার আছে। আমার সংসার কষ্টের হলেও সে সংসার ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব নয়। কোন পরিবারে বড় বোনের বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ছোট বোনের ভাল কোন ঘরে বিয়ে হয়না।
    সকালে উঠে আমরা একসাথে নাস্তা করলাম,চা খেলাম। মনে হল সব স্বাভাবিক আছে। তুমি আমাকে রিকসা করে কাউন্টারে নিয়ে আসলে। খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছ। গাড়ীতে উঠার ঠিক আগ মুহুর্তে আমি তোমাকে বললাম ঢাকায় ফিরে গিয়ে তোমার সাথে আমি আর যোগাযোগ করবনা। তুমি শুধু জিজ্ঞেস করলে “কেন,আমার অপরাধ কি?” আমি বললাম সেটা ঢাকায় গিয়ে বলব। আমি গাড়িতে উঠে পড়লাম তুমি দাড়িঁয়ে রইলে।
    ঢাকায় এসে তোমাকে আর কিছুই জানানো হয়নি। আমি আমার সিম বদলে ফেললাম। এটাই ছিল আমার একমাত্র উপায় তোমার সাথে আমার যোগাযোগ বন্ধ করার। এই নাম্বার ছাড়া তুমি আমার আর কিছুই জাননা। কারন আমার আর কিছু বলার বা করার ছিলনা।
তুমি আমাকে ভূলে যাও। আমি জানি সেটা তোমার পে অসম্ভব। তারপরও বলছি ভূলে যাও। ভুলে গেলেই ভাল থাকতে পাববে। অন্যথায় শুুধু কষ্টই পাবে। তার চেয়ে ভুলে যাওয়াই ভাল। আমার পোট্রেটটা পুড়িয়ে ফেল আর আমার সমস্ত ছবি গুলো কম্পিউটার থেকে ডিলেট করে দাও। নুতন কওে কারও সাথে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা কর। আর এই মানুষটিকে পারলে মা করে দিও। তোমার জন্য আমার ভালবাসা খুব গোপনে সারা জীবন বেচেঁ থাকবে।

ইতি
পিউনি

প্রাচীন
২৭, কে.বি প্লাজা
চকবাজার, চট্টগ্রাম।

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৩

অপূর্ণতায় ভালোবাসা.../ জিপসি রুদ্র

মেয়েটি বেশ গোছালো, পরিপাটি। সাজগোজ তেমন একটা করেনা। তবে মাঝে মাঝে শাড়ি পড়ে চোখের নিচে গাড় করে কাজল দেয় । তখন তাকে বেশ লাগে! এটি অবশ্য সে সব সময় করেনা যখন কবিতা আবৃতি করতে যায় তখন করে। 
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বড় হয়ে নিজেকে তৈরি করেছে উচ্চ মানসিক ধারনক্ষমতা সম্পন্ন এক মেয়ে হিসাবে । এই মেয়ের মধ্যে অন্য দশটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের মত কোন অন্ধ ধর্মীয় গোঁড়ামি নেই। নেই রাষ্ট্রের সংকটাবস্থায় নিশ্চুপ অবস্থান।কারণ সে জানে কোন বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা অথবা উভয় পক্ষ সমর্থন করা দুই’ই ভণ্ডামি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে তার নিজস্ব মতামত প্রদান, যেটি অন্য দশটি মেয়ে থেকে তাকে আলাদা করেছে। অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন এই মেয়েটি শিল্পকলায় তার সমসাময়িক অন্য সবার থেকে অনেক বেশি স্বচ্ছ চিন্তার ও স্বচ্ছ মানসিকতার।   
এই মেয়েটির সাথে আমার সম্পর্ক  বেশ ভালো। তাকে আমি ভালোবাসি নাকি সে আমাকে ভালোবাসে ব্যাপারটা আমার কাছে এখনও পরিস্কার না।তবে আমরা বেশ ভালো ভাবেই দিনাতিপাত করছি।  ছবির মত দেখতে সুন্দর বলে  তার নাম রাখা হয়েছিল ছবি। পড়ছে বাঙলায়। অনার্স ৩য় বর্ষ। ভালো কবিতা লিখতে না পারলেও ভালো কবিতা আবৃতি করে সে।বছর দুয়েক আগে  একটি কবিতা আবৃতি অনুষ্ঠানে তার সাথে আমার পরিচয়  তারপর সখ্যতা। তারপর থেকে একসাথে পার করে দিলাম  অনেকটা সময়।
ছবির মা নেই । যখন সে ক্লাস নাইনে তখন তার মা  আত্মহত্যা করেছিলো। কেন করেছিল সেটি আমি কখনও জানতে চায়নি। অবশ্য সেও আমাকে বলেনি। আর বাবা থাকে দুবাই। প্রায় সাত বছর তার বাবা দেশে আসছে না। ছবি  তার খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। অতি প্রয়োজন না হলে সে বাবার সাথে কথা বলে না। আমার ধারনা সে তার বাবাকে তেমন একটা পছন্দ করে না।
লাভট্যুরে গতবার শীতে গিয়েছিলাম  আমরা কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন। আমাদের  এক সাপ্তাহের ট্যুর ছিল। অসাধারণ সময় কাটিয়েছি। সে শুঁটকি পছন্দ করে না শুঁটকির ভোদকা গন্ধে নাকি তার বমি আসে। কিন্তু সেন্টমার্টিন এ সে দিব্যি শুঁটকি ভর্তা খেয়েছে অনেক তৃপ্তি নিয়ে। কক্সবাজারে খোলা আকাশের নিচে তার কোলে মাথা রেখে কবিতা শুনেছি গোটা রাত্রি।সে গুনের “যাত্রা ভঙ্গ” কবিতাটি অসম্ভব ভালো আবৃতি করতে পারে! সমুদ্র’র বিশালতাকে সামনে নিয়ে দুজনই অসম্ভব রোমাঞ্চিত হয়েছি।
তার পছন্দের বিষয় হল আমায় নিয়ে ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা। আমি বৃষ্টি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলি  কারণ বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার হয় সর্দি না হয় জ্বর । কিন্তু তার কারণে পারিনা।ভেজা শরীরে ধুমায়িত চা তার নাকি অসাধারণ লাগে। বৃষ্টিতে ভেজার পর আমার যদি সর্দি অথবা জ্বর হয় তখন তার  কোলে আমার মাথাটা নিয়ে “পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে” গান শুনায়। এই গানটি তার গলায় আমার অসম্ভব প্রিয়।
কয়েক মাস আগে আমি হাসপাতালে ছিলাম বেশ কয়েকদিন। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হার্টের সমস্যা হয়েছিল। প্রত্যেকটা দিন আমার জন্য খাবার এনেছে হাতে তুলে খাইয়েছে। আমার সেবা করেছে। আমি তাকে জিজ্জাস করেছিলাম এত করছ কেন ? সে উত্তরে শুধু বলেছিল “ভালোবাসি যে” আমি সিক্ত হয়েছিলাম ! চোখের কোনে অজান্তেই পানি এসেছিল!
বেশ কিছুদিন ধরে আমার ছবি হাসপাতালে । তার এইচ আই ভি পজেটিভ। এই ভাইরাস টা সে পেয়েছে তার মা থেকে।আর তার মা পেয়ছে তার স্বামী থেকে। মানে ছবির বাবা থেকে। ছবির বাবার নৈতিক চরিত্র তেমন একটা  ভালো ছিলনা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়ের সাথে অনিয়ন্ত্রিত যৌনতায় মিলতো। ছবির জন্ম হওয়ার পর ছবির মা বিষয়টি জানতে পারে। ছবি যখন ক্লাস নাইনে তখন তার মা জানতে পারে সে এবং ছবি দুজনেই এইচ আই ভি ভাইরাস বহন করছে। সন্তানের কাছে অপরাধি হয়ে থাকার চাইতে আত্মহননকেই সে উত্তম মনে করে।
ছবির সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে হাসপাতালে।আমি থাকে জিজ্জাস করেছিলাম, ভবিস্যত পরিকল্পনা কি?  সে উত্তরে বলেছে,  এমনিতেই আমরা সবাই মারা যাবো । মানুষের জীবন’তো একটাই  একটু অন্যরকম হলে ক্ষতি কি! তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভবিষ্যতে আমারা দুজন একসাথে থাকবো । যেহেতু আমার সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব নয় তাই আমরা একটা বাবু দত্তক নিবো এবং ওকে আমরা আমাদের সন্তান হিসাবে বড় করবো যাতে প্রজন্ম ঘাটতি না হয়। এখন তুমি বল তুমি রাজি আছো কি না ? আমি বললাম, আমি একটু ভেবে জানাই? সে বলল অবশ্যই!
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়েছি। ঘড়ি দেখলাম রাত এক’টার কিছু বেশি। মাথা ভনভন করে ঘুরছে। কি জানাবো থাকে আমি রাজি নাকি রাজি না। যদি রাজি না থাকি তাহলে সে কি করবে? আত্মহত্যা করবে তার মার মত? নাকি আমার উপর ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকবে? আর যদি রাজি হই তাহলে সমাজ কি বলবে?সমাজ কি আমার এমন ভালোবাসা মেনে নিবে? সমাজ কি আসলেই এতটুকু পরিশীলিত হয়েছে?
রাস্তায় সুনশান নিরবতা মাঝে মধ্যে দু’একটা গাড়ি চলাচল করছে। ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম আলোর নিচে আমি হাঁটছি। মাথার মধ্যে তার সাথে কাটানো অতীত স্মৃতি এলোমেলো ভাবে ঘুরছে। বুঝতে পারছিনা থাকে কি বলবো!

নিসর্গ
২৭ কে.বি প্লাজা
চকবাজার, চট্টগ্রাম
01673011180